গ্রিক বীর আলেকজান্ডার ভারতে পদাপর্ণ করে দেশের ভৌগলিক ও মানসিক বৈচিত্র্য দেখে তাঁর সেনাপতি সেলুকাসকে নাকি বলেছিলেন  'সত্য সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ!'  লকডাউনের ভারতে আসলেও তিনি এমন কথাই বলতেন বলে মনে করছেন অনেকে। সোমবার থেকে দেশে শুরু হয়েছে তৃতীয় দফার লকডাউন। এর মাঝেই বেশ কিছু নিয়ম শিথিল করেছে কেন্দ্র। তার মধ্যে অন্যতম গ্রিন, অরেঞ্জ এবং রেড জোনে খুলে দেওয়া হয়েছে মদের দোকান। দেশের প্রায় সব রাজ্যই আয় বাড়াতে খুলে দিয়েছে মদের দোকান। প্রায় ৪০ দিন পর ফের মদের দোকান খোলায় সুপাপ্রেমীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। প্রথম দিনেই কোটি কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছে দেশে। কোথাও কোথাও ১-২ কিলোমিটার লম্বা লাইন পড়েছে। আর এই মদ বিক্রি নিয়েই এখন শোরগোল বেঁধেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। 

বোতলের জন্য লম্বা লাইন, সুযোগ বুঝে ৭০ শতাংশ দাম বাড়িয়ে দিল সরকার

লকডাউনের দেশে রেশনের থেকেও লম্বা লাইল মদের দোকানে, সামাজিক দূরত্ব না মেনেই জমায়েত

করোনার দাপটে বিধ্বস্ত ভারতীয় অর্থনীতি, রঘুরাম রাজনের পর অভিজিতের কাছে দাওয়াই চাইলেন রাহুল

লকডাউনের কারণে দেশে তৈরি হয়েছে আর্থিক মন্দা। কাজি হারিয়েছেন গরিব খেটে খাওয়া মানুষ ও দিন আনা দিনে খাওয়ায় মানুষজন। কিন্তু মদের দোকানের সামনের ভিড় থেকে তা বোঝার উপায় নেই। সামাজিক দূরত্বের বিধি শিকেয় তুলে সুপাপ্রেমীরা  অপেক্ষা করেছেন মদের জন্য। কর্ণাটকে প্রথম দিনেই মদ বিক্রি হয়েছে ৪৫ কোটি টাকার। যেখানে এক গ্রাহকের বিল দেখে চক্ষু ছানাবড়া সকলের। ৫২,৮৪১ টাকার মদ কিনেছেন ওই ব্যক্তি। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেই বিল। বেঙ্গালুরুর ভ্যানিলা স্পিরিট জোন নামে একটি দোকান থেকে এই মদ কেনা হয়েছে। যা অনুমোদিত পরিমাণের থেকে অনেক বেশি। আইন ভেঙে এক ব্যক্তিকে এই বিপুল পরিমাণ মদ বিক্রির জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করেছে কর্ণাটকের আবগারি দফতর।

 

একজন ব্যক্তিকে দিনে সর্বোচ্চ ২.৬ লিটার ভারতে তৈরি বিদেশি মদ বিক্রি করা যাবে বলে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এদিকে ভ্যানিলা স্পিরিট জোনের মালিকের বক্তব্য, আটজন মিলে ওই পরিমাণ মদ কেনেন কিন্তু একটিই বিল করা হয়।

 

 

তবে গল্প এখানেই শেষ নয়। ইতিমধ্যে নেট দুনিয়ায় আরও একটি মদের বিল ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে ৯৫,৩৪৭ টাকার মদ কেনা হয়েছে। এবারও ঘটনাস্থল সেই বেঙ্গালুরু। দোকানের নাম জানা না গেলেও বোঝা যাচ্ছে সেটি কর্ণাটকের ডলারস কলোনিতে অবস্থিত।

 

মন্দার বাজারে এত টাকার মদ কারা কিনেছেন তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একেবারে শোরগোল বেঁধে গিয়েছে। ২টি বিল ভাইরাল হতেই তাতে নেটিজেনদের কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। কেউ লিখেছেন, সারা মালের বেতন দিয়ে সেই মদ কেনা হয়েছে। আবার কেউ লিখেছেন, দোকান খুলবেন নাকি ক্রেতা!

এদিকে বেঙ্গালুরুর মত রাজধানী দিল্লিতেও মদের দোকান খুলকে বিশাল লম্বা লাইন চোখে পড়ে। প্রায় ১৫০টি মদের দোকান খুলেছে দিল্লিতে। কিন্তু সোমবার ভিড়ের কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় অনেক দোকান বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে ভিড় সামলাতে মঙ্গলবার থেকে মদের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে দিল্লি সরকার। একলাফে রাজধানীতে সোমরসের দাম বাড়ানো হয়েছে ৭০ শতাংশ। এখন থেকে রাজধানীতে মদ কিনলে মূল দামেপ সঙ্গে ৭০ শতাংশ কর দিতে হবে ক্রেতাকে। দিল্লি সরকার যার নাম দিয়েছে 'স্পেশাল করোনা ফি'।