সব জল্পনায় জল ঢেলে পিছিয়ে এলেন সুপারস্টার রজনীকান্ত। মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছেন তিনি কোনও রাজনৈতিক দল গঠন করবেন না। এটা শুধু এখনকার জন্য নয়, আগামী দিনেও তিনি রাজনৈতিক দল গঠন থেকে বিরত থাকবেন। ঈশ্বরের থেকে একটি আদেশ পাওয়ার পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলেও জানিয়েছেন দক্ষিণী সুপারস্টার। মঙ্গলবার রজনীকান্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর অনুগামী বা ভক্তদের বোকা বানাতে চান না। বর্তমানে তাঁর স্বাস্থ্য়ে অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি  হয়েছিলেন। দিন দুই আগে ছাড়া পান হাসপাতাল থেকে। তবে দীর্ঘ দিন ধরেই রাজনৈতিক দল গঠনের জল্পনা জিয়ে রেখেছিলেন তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও হতাশ হয়েছেন তাঁর অনুগামীরা। 

রজনীকান্ত বলেছেন, ভোট রাজনৈতিতে প্রবেশ করবেন না। তিনি রাজনীতি ছাড়াই তিনি জনসেবা করবেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে যেসব অনুগামীরা হতাশ হয়েছেন তাঁদের কাছেও তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। গত ২ বছর ধরেই রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন তিনি। সেই অনুযায়ী একাধিক পদক্ষেপও গ্রহণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু এদিনের এই ঘোষণার পর সবকিছুতেই ইতিপড়ল। 

৭০ বছরের রজনিকান্ত গত ২৫ বছর ধরে দক্ষিণী সিলভার স্ক্রিন কাঁপিয়ে রেখেছেন। বিন্ধ্য় পর্বতের গণ্ডি পারকরে গোটা ভারতেও তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। একের পর এক ব্লকব্লাস্টার ছবি উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। কিন্তু এদিন রজনিকান্তের ঘোষণায় একাধিকবার এসেছেন আত্মাধ্যের কথা। কারণ তিনি বলেছেন প্রভু বা ঈশ্বরের দেওয়া সতর্কতা হিসেবেই তিনি গোটা বিষয়টিকে দেখছেন। তিনি আরও বলেন তিনি যদি রাজনৈতিক দল গঠন করেন তাহলে তাঁকে পুরোপুরি ভরসা করতে হবে সংবাদ মাধ্যম আর সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর। অসুস্থতার জন্য জনগণের মাঝখানে গিয়ে কাজ করতে তিনি পারবেন না। তাঁর শারীরিক অবস্থা তাঁকে সেই শক্তি দেবে না। আর সেই কারণে ভোট যুদ্ধে জয় অধরাই থেকে যাবে। বাস্তববাদী কোনও মানুষই তাঁর যুক্তি অস্বীকার করবে না। 

৭০ বছরের রজনীকান্তকে আগামী এক সপ্তাহ শয্যাশায়ী থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিডনি স্ট্রান্সপ্ল্যান্টের পরবর্তী অবস্থায় রয়েছেন তিনি। হাইপার টেনশন ও বয়সের কথা বিবেচনা করে তাঁকে দুঃশ্চিতা করতে বারন করেছেন চিকিৎসরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কথায় তাঁর স্বাস্থ্য অনুকূল পরিস্থিতিতে রয়েছে। আর সেই কারণে ২০২১ সালে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগঠন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন তিনি।