বিরোধীদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও লোকসভার পরে রাজ্যসভাতেও পাশ হয়ে গেল ইউএপিএ বিল। এই বিল পাশ হয়ে যাওয়ার পরে যে কোনও সংগঠনের মতো ব্যক্তি বিশেষকেও সন্ত্রাসবাদী তকমা দিতে পারবে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যসভায় ১৪৭- ৪২ ভোটে পাশ হয়ে যায় বিলটি। বিলের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ দিন জরুরি অবস্থার কথা মনে করিয়ে দিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। 

এই বিলের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী এবং কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম অভিযোগ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করছে সরকার। এর পাশাপাশি, কংগ্রেস সাংসদ দিগ্বিজয় সিং অভিযোগ করেন, এনডিএ সরকারের আমলেই মাসুদ আজহারের মতো জঙ্গিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পিডিপি সাংসদ মীর মহম্মদ ফৈয়াজ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কাশ্মীর উপত্যকায় এই বিলের অপব্যবহার করে অসংখ্য সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হবে। প্রথম থেকেই এই বিলকে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানাচ্ছিল বিরোধীরা। বিরোধীদের সমর্থন চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদীদের কোনও ধর্ম হয় না, তারা মানবতার শত্রু। 

আরও পড়ুন- ফের চরবৃত্তির অভিযোগে এক ভারতীয়কে গ্রেফতার করল পাকিস্তান পুলিশ

আরও পড়ুন- কাশ্মীর উপত্যকায় ফের অতিরিক্ত ২৫,০০০ সেনা মোতায়েন করল কেন্দ্রীয় সরকার

যদিও বিরোধীদের দাবি উড়িয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন, এই আইন লাগু হলেও কোনওভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে না। এর জন্য চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হবে। শুধু তাই নয়, ইউএপিএ বিল পাশ হওয়া জঙ্গি হামলার ঘটনা বা জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্তদের শাস্তিদানের প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

চিদম্বরম-সহ কংগ্রেসকে জবাব দিয়ে অমিত শাহ বলেন, 'আপনারা ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা না বললেই ভাল। আপনাদের আমলে জরুরি অবস্থার সময় দূরদর্শন-সহ সমস্ত সংবাদমাধ্যমের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। বিরোধী নেতাদের জেলে ভরা হয়েছিল।' এর পাশাপাশি বিরোধীদের আপত্তির জবাব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনও একটি সংগঠনকে জঙ্গি বা সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করলে নতুন নামে একটি সংগঠন খুলে তার ছাতার তলায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ শুরু করে অনেকেই। সেই কারণেই সংগঠনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেও সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করা প্রয়োজন।