চলে গেলেন রাজ্যসভার সাংসদ অমর সিং। শনিবার দুপুরে সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সমাজবাদী পার্টির প্রাক্তন এই নেতা।  বিগত কিছুদিন ধরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।

এক সময় দিল্লির রাজনীতিতে অন্যতম নাম ছিলেন অমর সিং। সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে যুক্ত হলেও সব দলের নেতাদের সঙ্গে ছিল তাঁর সখ্যতা। বিশেষ করে বলিউডে বচ্চন পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। কিন্তু এক সময় সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে যোগ ছিন্ন হয় তাঁর। তারপর থেকেই কিছুটা হলেও রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা হারান এই নেতা। ফের রাজ্যসভায় প্রত্যাবর্তনে মনে হচ্ছিল হয়তো রাজনীতিতে আবার  পুরনো মহিমায় দেখা যাবে সদাহাস্য  এই নেতাকে। কিন্তু  তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।

আরও পড়ুন: রাম মন্দিরের ভূমি পুজোয় এখনও আমন্ত্রণ পেলেন না আডবাণী ও যোশী, লাইম লাইটে কেবল মোদী

দীর্ঘ সময় সমাজবাদী পার্টির সাধারণ সভাপতি ছিলেন অমর সিং। ২১ শতকের প্রথম দশকে দেশের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যেই ছিলেন তিনি। মুলায়ম সিং যাদবের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রাজনৈতিক মহলে সুবিদিতও ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ে। ২০১০ সালে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয় তাঁকে।

দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন অমর সিং। ২০১৩ সালে কিডনি ফেলিওরের পর থেকেই অশক্ত হয়ে পড়েন। গত কয়েক মাস ধরে সিঙ্গাপুরে ছিলেন। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় শেষের কিছুদিন আইসিইউ-তে ছিলেন।  পাশে ছিল তাঁর পরিবার। 

 অসুস্থতা সত্ত্বেও ট্যুইটার সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি সক্রিয় ছিলেন।শনিবার সকালেও তাঁর টুইটার হ্যান্ডেল থেকে ইদের শুভেচ্ছা ও বাল গঙ্গাধর তিলকের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। 

আরও পড়ুন: ইদে দেশবাসীকে শুভেচ্ছাবার্তা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির, বাংলাদেশেরও শ্রীবৃদ্ধি কামনা মোদীর

হালে  অমর সিং অনেকটাই বিজেপির দিকে ঝুঁকছিলেন। হাসপাতালের বেডে থেকেই তিনি গত ২২ মার্চ ট্যুইটারে একটি ছোট ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওতে তিনি করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন করার জন্য তাঁর সমস্ত অনুগামীদের কাছে আবেদন করেছিলেন। ছোট্ট ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের  মৃত্যু নিয়ে গুজব উড়িয়ে লিখেছিলেন- 'টাইগার জিন্দা হ্যায়'।

অমর সিংয়ের মৃত্যুতে একজন বর্ণময় ব্যক্তিত্বকে হারাল ভারতীয় রাজনীতি। রাজনীতিবিদ হিসাবে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। তবে সমাজবাদী পার্টি ছাড়ার পর তাঁর রাজনৈতিক গ্রাফ ছিল নিম্নমুখী। সমাজবাদী পার্টি ত্যাগ করার পরে তিনি নিজের রাজনৈতিক দল তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তা সফল হয়নি