সোশ্যাল মিডিয়া বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে করা পোস্ট ও একাধিক মন্তব্য নিয়ে গোটা দেশ জুড়েই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখরের বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিল তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় ধোত্রে বলেছেন যে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি ভারতীয় আইন মেনে চলছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। 

রাজীব চন্দ্রশেখরের প্রশ্ন
প্রথম প্রশ্নঃ  কেন্দ্রীয় সরকার কি অবগত সদ্যো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির অভিযোগ সম্পর্কে এবং যা ১৯ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছে। 
দ্বিতীয় প্রশ্নঃ তাদের অ্যালগরিদিম ও সম্প্রদায়ের নির্দেশিয়া ভারতীয় আইনগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল এবং সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদ গ্যারান্টিযুক্ত সমস্ত ভারতীয় নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ ক হয়েছিল কিনা? 

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন মিডিয়া রিপোর্ট, অভিযোগ এবং আদালতের কিছু মামলার রিপোর্ট  মন্ত্রকের কাছে এসেছে। তিনি বলেছেন যে ইন্টারনেটের পাশাপাশি সামাজিক  ও ডিজিটাল মিডিয়া প্রচারের ফলে কেউ অনলাইনে যেকোনও কিছু পোস্ট করতে পারে। যার ফলে ডেটাগুলির একটি বিশাল সংগ্রহশালা তৈরি হয়। তিনি বলেন এই প্রসঙ্গে সংবিধানের ১৯(২)অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করার সম্ভাবনা ছিল। 

তিনি আরও জানিয়েছেন অনুচ্ছেদ ১৯(২) আইন দ্বারা, জনগণের আদেশের জনগণের স্বার্থে বাক স্বাধীনতী ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর যুক্তসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপের জন্য সরকারকে অনুমোদন দেয়। 

তিনি জানিয়েছেন সরকার ভারতীয় নাগরিকদের রক্ষা ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভারতীয় আইনগুলি মেনে চলার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে ২০০০ সালের তথ্য প্রযুক্তি আইনের থার্ড পার্টি ইনফরমেশনের অধীনে নিয়ে আসা হচ্ছে। 
তিনি আরও বলেছেন যথাযথ নিয়মে মধ্যে তাদের প্ল্যাটফর্মের শর্তাদি এবং গোপনীয়তা নীতি প্রকাশ করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াগুলি তাদের ব্যবহারকারীদের অবগত করতে পারে ক্ষতিকারক আপত্তি জনক কোনও তথ্য পোল্ট ও শেয়ার না করার জন্য। একই সঙ্গে এজাতীয় কোনো কিছু আপলোড না করার বিষেয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। 

ধোত্রে বলেছেন ভারতীয় আইনের ৭৯ ধারা অনুযায়ী যে সব প্ল্যাটফর্মগুলি তাদের সংস্থানসমূহে তৃতীয় পক্ষের তথ্য রাথে অথবা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে সেই সংস্থাগুলিকে এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে জানান হয়েছে এরই মধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে পাব্লিকেশন শর্ত ও গোপনীয়র নীতিও সংযুক্ত করা হয়েছে। 
তিনি আরও বলেছেন যে সব বিষয়গুলি ১৯(২) ধারাতে লঙ্ঘিত করে সেগুলি সরকার, আদালত অথবা সংশ্লিষ্ট সংস্থা ৭৯ ধারার অধীনে নির্দেশ দিতে পারে। এই নিয়মগুলি মেনেই সোশ্যাল মিডিয়াকে আরও বেশি স্পর্শকারত ও ভারতীয় আইনের অধীনে আনা হচ্ছে। ডিজিটাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেই এই আইনগুলি প্রযোজ্য বলেও জানিয়েছেন তিনি।