লোকসভায় পাস হওয়ার পর এবার রাজ্যসভায় পেশ হতে চলেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল—ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল এবং ব্যাঙ্কার্স বুকস এভিডেন্স বিল। সোমবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই বিল দুটি বিবেচনার জন্য পেশ করবেন।
সোমবার রাজ্যসভায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা হবে—ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল এবং ব্যাঙ্কার্স বুকস এভিডেন্স বিল। এই দুটি বিল ইতিমধ্যেই লোকসভায় পাস হয়ে গিয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বিল দুটি বিবেচনার জন্য এবং পাস করানোর জন্য সভায় পেশ করবেন।
ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল
'ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬'-এর মাধ্যমে পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০০৭, ইনকাম-ট্যাক্স অ্যাক্ট, ২০২৫ এবং ফিনান্স অ্যাক্ট, ২০২৬ সংশোধন করার প্রস্তাব রয়েছে। এই বিলে বিনিয়োগ বাড়ানো, উৎপাদন শিল্পকে সমর্থন এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার জন্য একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি ইনকাম-ট্যাক্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৬-এর পরিবর্তে আনা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেইনেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই আবহে বিলটি আনা হয়েছে। সরকারের মতে, এই সংশোধনগুলির উদ্দেশ্য হল বাইরের অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানো, দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা এবং বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত্রগুলিকে সমর্থন করা। এর পাশাপাশি ব্যবসা করার পদ্ধতি আরও সহজ করা এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনাও এর লক্ষ্য।
বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজমেন্টের জন্য প্রস্তাব
এই বিলের অন্যতম প্রধান প্রস্তাব হলো বিদেশে থাকা উপযুক্ত বিনিয়োগ তহবিল এবং ফান্ড ম্যানেজারদের শর্তাবলী সহজ করা। ইনকাম-ট্যাক্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর নিয়মকানুন আরও সরল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ভারতে ফান্ড ম্যানেজমেন্টের কার্যকলাপ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য করের নিয়ম আরও স্পষ্ট করা।
ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে উৎসাহ
এই বিলে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন শিল্পকে কর ছাড়ের সুবিধা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক্স পণ্যের জন্য ভারতীয় কন্ট্র্যাক্ট ম্যানুফ্যাকচারারদের কাছে বিদেশি সংস্থাগুলির মূলধনী পণ্য, সরঞ্জাম বা টুলিং সরবরাহের ক্ষেত্রে যে কর ছাড় পাওয়া যেত, তার মেয়াদ ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত ছিল। এখন সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০৪১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, সার্ভার, হিয়ারেবল, ওয়্যারেবল এবং সম্পর্কিত অ্যাকসেসরিজের মতো পণ্যগুলিকেও নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক্স পণ্যের সংজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং হীরের ব্যবসায় ছাড়
সরকারি সিকিউরিটিজে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন কর ছাড়ের প্রস্তাবও এই বিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফরেন ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর (FII) এবং ব্যাঙ্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টস-এর জন্য সরকারি সিকিউরিটিজ বিক্রি, বিনিময় বা হস্তান্তর থেকে হওয়া সুদের আয় এবং মূলধনী লাভকে করের আওতার বাইরে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে হীরের ব্যবসায় ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে, যোগ্য বিদেশি হীরে খনি সংস্থা, সাইট হোল্ডার, দালাল এবং নিলামকারী সংস্থাগুলিকে বিশেষ নোটিফায়েড জোনের মাধ্যমে কাঁচা হীরে বিক্রি থেকে হওয়া আয়ের উপর ২০৪১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কর ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিজনেস ট্রাস্ট এবং পেমেন্ট সিস্টেমের পরিবর্তন
বিজনেস ট্রাস্টের ক্ষেত্রে, একটি পুরনো নিয়ম বাতিল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, যদি স্পেশাল পারপাস ভেহিকেল (SPV) নতুন কর ব্যবস্থা বেছে নিত, তাহলে ইউনিট হোল্ডারদের প্রাপ্ত ডিভিডেন্ডে কর ছাড় মিলত না। কর সংক্রান্ত পরিবর্তন ছাড়াও, এই বিলে পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০০৭ সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে। এর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট মোড সংক্রান্ত বিধান থেকে ইনকাম-ট্যাক্স অ্যাক্টের উল্লেখ সরিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকার এমন ইলেকট্রনিক পেমেন্ট মোড নির্দিষ্ট করতে পারবে, যার উপর ব্যাঙ্ক বা সিস্টেম প্রোভাইডাররা কোনও চার্জ নিতে পারবে না।
ব্যাঙ্কার্স বুকস এভিডেন্স বিল
ব্যাঙ্কার্স বুকস এভিডেন্স বিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাঙ্কের রেকর্ডকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের আইনকে আধুনিক করা। এখনকার ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই আইনকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এই বিলটি ব্যাঙ্কিং সেক্টরে ইলেকট্রনিক এবং ডিজিটাল রেকর্ডের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারকে স্বীকৃতি দেবে। বিলে বলা হয়েছে, ব্যাঙ্কের খাতার ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল রেকর্ড নির্দিষ্ট শর্তাবলী মেনে চললে তা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য, বৈধ এবং আইনত কার্যকর হবে।


