ছত্তিশগড়ের উদন্তি-সীতানদী টাইগার রিজার্ভে সম্প্রতি এক বিরল উড়ন্ত কাঠবিড়ালির দেখা মিলেছে। বন দফতরের মতে, এই ঘটনাটি তাদের সংরক্ষণ প্রচেষ্টার সাফল্য এবং জঙ্গলের স্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রমাণ। এর ফলে জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ইকোট্যুরিজমের প্রচার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

রায়পুর: ছত্তিশগড়ের উদন্তি-সীতানদী টাইগার রিজার্ভ থেকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য একটা দারুণ ভালো খবর এসেছে। সম্প্রতি জঙ্গলে ঘোরার সময় বনকর্মীরা এক বিরল ইন্ডিয়ান ফ্লাইং স্কুইরেল বা উড়ন্ত কাঠবিড়ালির দেখা পেয়েছেন। এই বিরল প্রাণীটির উপস্থিতি বন সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সংরক্ষণ প্রচেষ্টার ইতিবাচক ফল

মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিষ্ণু দেও ساي এবং বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শ্রী কেদার কাশ্যপের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থান রক্ষার জন্য लगातार কাজ করে চলেছে। বন দফতরের জঙ্গল সুরক্ষা, বন্যপ্রাণী বাঁচানো এবং জীববৈচিত্র্য বাড়ানোর চেষ্টার ফলেই উদন্তি-সীতানদী টাইগার রিজার্ভ আজ বিরল প্রাণীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠছে।

উড়ন্ত কাঠবিড়ালির বিশেষত্ব কী?

  • গাছের মধ্যে হাওয়ায় ভাসা: ইন্ডিয়ান ফ্লাইং স্কুইরেল আসলে পাখির মতো উড়তে পারে না। এর সামনের এবং পেছনের পায়ের মাঝে একটি বিশেষ চামড়ার পর্দা থাকে। এর সাহায্যেই এটি এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফ দেওয়ার সময় হাওয়ায় ভেসে অনেকটা দূরত্ব পার করে ফেলে।
  • নিশাচর প্রাণী: এটি একটি নিশাচর প্রাণী, অর্থাৎ দিনের বেলায় গাছের কোটরে ঘুমায় এবং রাতের অন্ধকারে খাবারের খোঁজে বের হয়।

স্বাস্থ্যকর জঙ্গলের লক্ষণ

উড়ন্ত কাঠবিড়ালি শুধুমাত্র ঘন এবং প্রাকৃতিক ভাবে সুরক্ষিত জঙ্গলেই পাওয়া যায়। তাই এর দেখা পাওয়ার অর্থ হল, উদন্তি-সীতানদী টাইগার রিজার্ভের জঙ্গল জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশের ভারসাম্যের দিক থেকে খুবই স্বাস্থ্যকর।

বন দফতরের কাজের স্বীকৃতি

উদন্তি-সীতানদী টাইগার রিজার্ভের ডেপুটি ডিরেক্টর শ্রী বরুণ জৈন বলেন, "উড়ন্ত কাঠবিড়ালির দেখা পাওয়াটা বন দফতরের জন্য খুবই গর্বের বিষয়। এটা প্রমাণ করে যে রিজার্ভ এলাকায় আমাদের সংরক্ষণের কাজ সফল হচ্ছে।" তিনি আরও জানান যে বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ বাসস্থান এবং তাদের সুরক্ষার জন্য দফতর সমানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সচেতনতা এবং ইকোট্যুরিজম বাড়বে

বন দফতরের মতে, এই বিরল প্রজাতির প্রাণীটির খবর নথিভুক্ত হওয়ায় রাজ্যের জীববৈচিত্র্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি পাবে। এর পাশাপাশি ছাত্রছাত্রী, গবেষক, প্রকৃতিপ্রেমী এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে বন্যপ্রাণী বাঁচানোর বিষয়ে সচেতনতাও বাড়বে। এর ফলে রাজ্যে ইকোট্যুরিজমের প্রসারেরও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আরও সমৃদ্ধ হল ছত্তিশগড়ের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য

উদন্তি-সীতানদী টাইগার রিজার্ভে ইন্ডিয়ান ফ্লাইং স্কুইরেলের দেখা পাওয়াটা শুধু একটি বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি নয়, বরং রাজ্যে চলা সংরক্ষণ প্রচেষ্টার সাফল্যের গল্প। এই ঘটনা দেখিয়ে দেয় যে পরিকল্পিত সংরক্ষণ, নিয়মিত নজরদারি এবং বন দফতরের দায়বদ্ধতা দিয়ে বিরল প্রাণীদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। ছত্তিশগড়ের এই প্রাকৃতিক ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ এবং অনুপ্রেরণার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকবে।