ফের বিতর্কে রেহানা ফতিমাএর আগে শবরিমালায় প্রবেশ করে বিতর্ক বাধিয়েছিলেনঅনেক মূল্য চোকাতে হয়েছে তাঁকেএবার নগ্ন হয়ে কী বলতে চাইলেন তিনি 

ফের বিতর্কে জড়ালেন রেহানা ফতিমা। এর আগে মহিলা হয়ে সবরিমালায় আইয়াপ্পার মন্দিরে প্রবেশ করে সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন কেরলের এই নারী অধিকার কর্মী। যার জন্য তাঁকে বিএসএনএল-এর সরকারি চাকরি খোয়াতে হয়েছিল। নিতে হয়েছিল ‘বাধ্যতামূলক অবসর'। সম্প্রতি তিনিই নগ্ন বুকে তাঁর শিশুকে দিয়ে ছবি আঁকিয়ে তার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিতর্কে জড়ালেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এর জন্য কেরলের তিরুভাল্লা জেলার পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৭ নম্বর ধারায় অর্থাৎ 'ইলেকট্রনিক মাধ্যমে যৌনতা সম্পর্কিত বিষয়বস্তু পোস্ট করা' এবং পকসো আইনের ৭৫ নম্বর ধারা অর্থাৎ 'সন্তানের প্রতি নিষ্ঠুরতা'র অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

গত ১৯ জুন তারিখে রেহানা ফতিমা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেই ভিডিও-তে দেখা গিয়েছে উর্ধাঙ্গে কোনও আবরণ না রেখেই বিছানায় শুয়ে আছেন তিনি। পরণে শুধু একটা লাল রঙের শর্টস। ওই অবস্থায় রেহানার নগ্ন বুকে তাঁর শিশু পুত্র ও কন্যা একটি ফিনিক্স পাখি আঁকছে।

ভিডিওটি আপলোড করে সঙ্গে ক্যাপশনে মালায়ালাম ভাষায় রেহানা লেখেন, 'বদ্ধ যৌনতার সমাজে মহিলারা একদম নিরাপদ বোধ করেন না। কোনও মহিলার শরীর এবং যৌনতা কী তা সম্পর্কে আরও খোলামেলা হওয়া দরকার। যদি বাড়ি থেকেই তা শুরু করা হয় তবে এটা সমাজে পরিবর্তন আনতে পারে।'

তিনি আরও লেখেন, 'নৈতিক ফ্যাসিবাদী সমাজ'-এ নারী দেহকে নিছক মায়া হিসাবে দেখা হয়। এই সমাজে তারা যা গোপন করতে চায় তা প্রকাশ করাও এটি একটি রাজনৈতিক কাজ। আজকের সমাজ নারীদের মুখে লাগাম লাগানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। ঠিক ষেমনভাবে নগ্নতা বা যৌনতার উল্লেখ পর্যন্ত সেন্সর করা হয়। তাই এটা একটা সাহসী রাজনৈতিক কাজ যা এই সময় দাবি করে।

সেই রাজনৈতিক বিবৃতিই কিন্তু তাঁকে ফের বিপদে ফেলল। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বহু মানুষ তাঁর এই কাজের সমালোচনা করেছেন। এই তীব্র আক্রমণের মুখে তিনি কতদূর পর্যন্ত লড়তে পারেন, এবার সেটাই দেখার।