পোলিওর টিকার বদলে ১২ জন শিশুকে খাওয়ানো হল স্যানিটাইজার! ওই শিশুদের সকলেরই বয়স ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে। টিকার বদলে স্যানিটাইজার খাওয়ানোর পর তাদের কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আপাতত এক সরকারী হাসপাতালে চলছে তাদের চিকিৎসা। গুরুতর গাফিলতির এই ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের যবতমল জেলায়। তবে প্রায় ৪৮ ঘন্টা পর্যবেক্ষণের পর ওই শিশুদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলেই দাবি করেছেন জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক আশা কর্মী এবং এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

যবতমল জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী কর্তা কৃষ্ণা পঞ্চাল জানিয়েছেন, ঘাটানজি তহসিলের ভাম্বোড়া জনস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গত রবিবার শিশুদের দু'ফোঁটা করে পোলিও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু, কোনওভাবে পোলিও টিকা আর স্যানিটাইজারের পাত্র অদলবদল হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পারেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তিন কর্মচারী - কমিউনিটি হেলথ অফিসার, এক আশা কর্মী এবং এক অঙ্গনওয়াড়ি সেবিকা। এরপরে ওই কর্মীরা সেই ভুল সংশোধন করেও নেন। কিন্তু, স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান বিষয়টি জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।

এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। জানা যায়, শুধুমাত্র একটি শিশুই বারবার বমি করছে। চিকিৎসকরা অবশ্য জানিয়েছেন অনেকসময় পোলিও ফোঁটা নিয়েও অনেকে বমি করে। কিন্তু, ওই কর্মীদের গাফিলতি প্রশাসন একেবারেই হালকাভাবে নেবে না বলে জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক। তাঁর মতে পোলিও-র ভ্যাকসিন থাকে লেবেলযুক্ত বোতলে। তাছাড়া তাতে একটি ভ্যাকসিন ভাইরাল মনিটর রয়েছে। তাতে স্টোরেজের জন্য সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা হচ্ছে কিনা তা বোঝার জন্য নির্দিষ্ট রঙ দেখা যায়। কাজেই স্যানিটাইজারের সঙ্গে অদলবদল হওয়াটা চরম অবহেলা ছাড়া কিছু নয়। তাদের প্রশিক্ষণ ,ঠিকভাবে হয়েছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।