ছয় বছর আগের ঘটনা। জম্মু কাশ্মীরের পুলওয়ামার জেলার সাম্বুরা গ্রামের কাছে ভয়াবহ বন্যায় আটকে পড়েছিলেন  নিরাপত্তা বাহিনীর জনা বারো জওয়ান। পার্বত্য নদীর চোরা স্রোতে ভেসেই যেতেন যদি ১৯ বছরের সাহসী ছেলেটা না থাকত। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁতার কেটে জওয়ানদের উদ্ধার করেছিল আসিফ মোজাফ্ফর মীর। এখন ২৫ বছরের যুবক সেই আসিফ নাকি সম্প্রতি জঙ্গিদলে নাম লিখিয়েছেন।

আসিফ স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় এক বাজারে স্টেশনারি ডজিনিসের একটি দোকান চালাতেন। আসিফের পরিবারের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ১০ অগাস্ট সন্ধ্যায় দোকান থেকে আর বাড়ি পেরেননি তিনি। তাঁরা প্রথমটায় ভেবেছিলেন, সে হয়তো বন্ধুদের সঙ্গে হঠাৎ কোথাও ববেড়াতে গিয়েছে। কিন্তু কয়েকদিন কেটে যাওয়ার পরও তার খোঁজ না মেলায় তাঁরা পুলিশের কাছে একটি নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশ তদন্ত করে জানতে পেরেছে, আসিফ সন্ত্রাসবাদী দল জইশ-ই-মহম্মদে যোগ দিয়েছেন। এমনকী সে তার পরিবারকে তার সন্ধান করতেও নিষেধ করেছে। কিন্তু কেন, মাত্র ছয় বছর আগে জওয়ানদের রক্ষা করা আসিফ এখন জঙ্গি দলে নাম লেখালো, সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না তাঁর বাড়ির সলোক থেকে প্রশাসনিক কর্তারা।

তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এর আগে আসিফকে শ্রীনগরে একবার দুই মাসের জন্য কারাগারে বন্দি করেছিল  পুলিশ। পরে পাম্পোর জেলায় আরও একবার তাকে কয়েদ করেছিল পুলিশ। এক মাস আগে তাকে পুলওয়ামা বিস্ফোরণ মামলায় বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জম্মুতে নিয়ে গিয়েছিল জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ। এই সব ঘটনা পরম্পরাই তাকে সন্ত্রাসবাদের দিকে আগ্রহী করল, নাকি অন্য কারণে সে এই ভয়ঙ্কর রাস্তা বেছে নিল, তারই উত্তর খুঁজছেন সকলে।

আসিফের বাবা একজন বেসরকারি বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। এখন স্থানীয় মসজিদে নামাজপাঠ করান। আসিফের এক ছোট ভাই-ও রয়েছে। এখন একাদশ শ্রেণিতে পড়ছে। কাশ্মীরে গত কয়েক মাসে প্রায় হাফ ডজনেরও বেশি জঙ্গি কমান্ডারদের খতম করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। কিন্তু, উপত্যকার তরুণদের মধ্যে জঙ্গে দলে যোগ দেওয়ার প্রবণতা ক্রমে বাড়ছে বলেই জানা গিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে। যা নিয়ে উদ্বেগে বাহিনীর কর্তারা। এরমধ্যে আসিফ-এর ঘটনা তাঁদের বিস্মিত করেছে।