SBI-র পর এবার কি আরও এক ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে? সাইবার অপরাধীদের নজরে দেশের আরও এক ব্যাঙ্ক! ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর দাবি।

ব্যাঙ্কে গচ্ছিত টাকা নয়, এবার গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যও সাইবার অপরাধীদের নিশানায়! অক্টোবর মাসে দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-র ৩,৮৯৭ জন গ্রাহকের তথ্য ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ্যে আসার খবর সামনে এসেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার AU স্মল ফিন্যান্স ব্যাঙ্কে তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একটি হ্যাকার গোষ্ঠী ব্যাঙ্কের সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি করেছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। যদিও ব্যাঙ্কের দাবি, তাদের নিজস্ব ব্যাঙ্কিং সিস্টেম সুরক্ষিত রয়েছে এবং গ্রাহক পরিষেবায় কোনও প্রভাব পড়েনি।

AU স্মল ফিন্যান্স ব্যাঙ্কের তরফে কী জানানো হয়েছে?

শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতিতে AU স্মল ফিন্যান্স ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, সেলসফোর্সে (Salesforce) হোস্ট করা একটি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের ঘটনা তারা তদন্ত করে দেখছে। ওই প্ল্যাটফর্মে মূলত গাড়ির ঋণ বা ভেহিকল লোন নেওয়া গ্রাহকদের কিছু সীমিত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে ব্যাঙ্কের বক্তব্য, প্ল্যাটফর্মটি সেলসফোর্সের মাধ্যমে পরিচালিত ও হোস্ট করা হয়। এই ঘটনায় ব্যাঙ্কের নিজস্ব ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। গ্রাহকদের জন্য ব্যাঙ্কিং পরিষেবাও স্বাভাবিক রয়েছে।

হ্যাকার গোষ্ঠীর দাবি কী?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কারলেটগ্রুপ (Scarlet Group) নামে একটি হ্যাকার গোষ্ঠী AU স্মল ফিন্যান্স ব্যাঙ্কের সিস্টেমে অনুপ্রবেশের দাবি করেছে। তাদের দাবি, গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম সংক্রান্ত তথ্যও তাদের হাতে এসেছে।

কী কী তথ্য চুরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে? তালিকায় রয়েছে গ্রাহকদের KYC নথি, পরিচয়পত্র, PAN ও আধার সংক্রান্ত তথ্য, ক্রেডিট রিপোর্ট, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, ঋণের আবেদনপত্র, স্বাক্ষর করা চুক্তিপত্র এবং বিমার নথি। এ ছাড়াও CRM ডেটা, কর্মীদের তথ্য, লগইন হিস্ট্রি এবং অডিট লগ হাতিয়ে নেওয়ার দাবি করেছে হ্যাকার গোষ্ঠী। তবে এই সমস্ত তথ্য সত্যিই ফাঁস হয়েছে কি না, তা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ব্যাঙ্কের তদন্ত চলছে। SBI-র ৩,৮৯৭ জন গ্রাহকের তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছিল

উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর SBI-র ৩,৮৯৭ জন গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ্যে আসার ঘটনা সামনে আসে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল গ্রাহকদের মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ, ইমেল আইডি এবং বাড়ির ঠিকানা। সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই ঘটনার কথা স্বীকারও করেছিল SBI। ব্যাঙ্ক জানিয়েছিল, তাদের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, ডিফেন্স সাইবার এজেন্সি এবং CERT-In-এর কাছ থেকে এই বিষয়ে সতর্কবার্তা পেয়েছিল তারা।

কীভাবে নিজের তথ্য সুরক্ষিত রাখবেন?

ব্যক্তিগত তথ্য সাইবার অপরাধীদের হাতে পৌঁছলে তা ব্যবহার করে জালিয়াতি, পরিচয় চুরি এবং অনলাইন প্রতারণার ঘটনা ঘটতে পারে। তাই গ্রাহকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোন বা মেসেজে সহজে বিশ্বাস করবেন না। কোনও অবস্থাতেই OTP, ATM PIN, পাসওয়ার্ড বা ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত গোপন তথ্য অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করবেন না। অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করা থেকেও বিরত থাকুন।