মঙ্গলবার ছিল দিল্লি বিধানসভার ফল ঘোষণা। গণনা শুরু হতেই চিত্রটা পরিষ্কার হতে থাকে, আপ যে আরও একবার রাজধানী শাসন করতে আসছে তা বুঝতে কারও বাকি থাকে না। শেষ পর্যন্ত ৭০ আসনের দিল্লি বিধানসভায় আপের দৌঁড় শেষ হয় ৬২টি আসনে। মঙ্গলবার সারাদিন জাতীয় রাজধানীর রাজনীতি ছিল আপময়। আর এর মধ্যেই তাল কাটল রাতে। গোটা দিল্লি জুড়ে যখন জয়োচ্ছাসে মেতেছেন আম আদমি পার্টির কর্মীরা তখনি এক আপ বিধায়কের গাড়ি লক্ষ্য করে চলল গুলি। 

 

এবার রাজধানীর নির্বাচনে আম আদমি পার্টির হয়ে ভোটে জিতেছেন ৬২ জন বিধায়ক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নরেশ যাদবও। জয়ের পর রাতে মন্দিরে পুজো দিয়ে ফেরার সময় তাঁর কনভয়ে হামলা হয় বলে অভিযোগ। অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর দল তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে গুলি চালায়। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন মেহরৌলি বিধানসভা থেকে আপের টিকিটে সদ্য বিধায়ক হওয়া  নরেশ যাদব। তবে এই হামলায় নিহত হন আম আদমি পার্টির এক দলীয় কর্মী। গুলিতে গুরুতর  জখম হয়েছেন আরও একজন। হাসপাতালে চিকিৎসা চললেও তাঁর অবস্থা সংকটজনক বলেই জানা যাচ্ছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজধানীর বুকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরই এলাকায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। জানা যাচ্ছে মৃত আপ কর্মীর  নাম অশোক মান। তিনি মেহরৌলির আপ বিধায়ক নরেশ যাদবের ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। ঘটনার পরই বিষয়টি নিয়ে ট্যুইট করেন সাংসদ সঞ্চয় সিং। জানান, "মেহরৌলির বিধায়ক নরেশ যাদবের উপর হামলা হল। দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর যে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের দিনেই বিধায়কের সঙ্গীকে খুন হতে হল।"

 

আপের টিকিটে সদ্য বিধায়ক হওয়া নরেশ যাদব জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে কারও কোন ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। বিধানসভার ফল প্রকাশের দিন এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। 

 

এদিকে গুলি চালানোর খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। শুরু হয় তদন্তও। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকেই গ্রেফতার করা যায়নি। এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির অতিরিক্ত ডিসিপি ইঙ্গিত প্রতাপ সিং দাবি করেছেন, একজন বন্দুবাজই এই হামলা চালিয়েছিল। বিধায়র নরেশ যাদব নন, হামলাকারীর লক্ষ্য ছিল মৃত অশোক মান।