বৃহস্পতিবারই ঝাড়খণ্ডে ভোট প্রচারে গিয়ে রাহুল গান্ধী নরেন্দ্র মোদীর 'মেক ইন ইন্ডিয়া' স্লোগান এখন 'রেপ ইন ইন্ডিয়া'-য় পরিণত হয়েছিলেন বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এদিন পরই এই নিয়ে তাঁকে লোকসভায় বিজেপির তীব্র আক্রমণের মুখে পড়তে হল। অধিবেশনের শুরুতে ২০০১ সালের সংসদ ভবন আক্রমণে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর থেকেই এই বিষয়ে রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করা শুরু হয়। তাঁর ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা হয়।

কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অর্জুন মেঘওয়াল, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় -সহ অনেকেই এর বিষয়ে মুখ খুললেও সবচেয়ে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নারী ও সিশু কল্য়ান মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। তাঁর অভিযোগ গান্ধী পরিবারের সন্তান সকলকে ভারত এসে মহিলাদের ধর্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশ্ন করেন, 'এটাই কি দেশবাসীর প্রতি তাঁর বার্তা?' এর জন্য তাঁর শাস্তি হওয়া উটিত বলে দাবি করেন তিনি।

এই নিয়ে তীব্র গোলমালে কিছুক্ষণের জন্য মুলতুবি হয়ে যায় সভার কাজ। রাজ্যসভাতেও বিজেপি সাংসদরা রাহুলের ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করেন। তবে রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়েছেন, 'রেপ ইন ইন্ডিয়া' মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর অভিযোগষ নাগরিকত্ব বিল নিয়ে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে যে ধুন্ধুমার চলছে, তার থেকে মানুষের চোখ সরাতেই তাঁর মন্তব্য নিয়ে শোরগোল শুরু করেছে বিজেপি।

পরে তিনি  একটি টুইট করে বলেন, উত্তর পূর্বে আগুনন লাগানোর জন্য, ভারতের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরই দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া  উচিত।

প্রসঙ্গত 'রেপ ইন ইন্ডিয়া' কথাটি প্রথম এসেছিল কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরির কাছ থেকে। সংসদে দাঁড়িয়েই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। সেইসময় ওই মন্তব্য নিয়ে কিন্তু খুব বেশি আপত্তি জানায়নি বিজেপি।