ধাক্কা দিলে সহ্য করার মত শক্তি রয়েছে। আবারও রাহুল গান্ধী নিশানা করেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে। শুধু যোগী আদিত্যনাথ নয়,  হথরসকাণ্ডে মঙ্গরবার রাহুল গান্ধীর নিশানায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। এদিন রাহুল গান্ধী বলেন হাথরসকাণ্ড নিয়ে সরব গোটা দেশ। কিন্তু এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অথচ তিনি সমস্ত বিষয় নিয়ে সরব হন। কিন্তু কেন এই নীরবতা তাও জানতে চেয়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি আরও বলেন উত্তর প্রদেশের পুরো প্রশাসন যখন নিহত নির্যাতিতার পরিবারকে নিশানা করছে তখনও মুখে কুপুল এঁটে রয়েছেন। যদিও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টেলিফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। দোষীদের শাস্তিদেওয়া বিষয়ও কথা বলেছেন তিনি। 

অন্যদিকে রাহুল গান্ধী একহাত নেন যোগীর প্রশাসনকে। তিনি বলেন উত্তর প্রদেশ সরকার স্বৈচারী ভূমিকা গ্রহণ করতে পারবে না কারণ গোটা দেশই হাথরসের নির্যাতিতার পরিবারের পাশে রয়েছে। ন্যায় বিচারের দাবিতে সরব হয়েছে। তিনি বলেন হাথরস ইস্যুতে গোটা দেশ ধাক্কা দিচ্ছে উত্তর প্রদেশের যোগী সরকারকে। তাই তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল কিনা সেটা এখন আর বড় বিষয় নয়। পাশাপাশি তিনি বলেন দেশ রক্ষার অঙ্গীকার করেই তিনি লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন।

বৃহস্পতিবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় উত্তর প্রদেশ পুলিশের সঙ্গে তাঁর ধাক্কা ধাক্কি হয়। সেই সময় মাটিতে পড়ে যায় রাহুল গান্ধী। তারপরেও তাঁকে নির্যাতিতার পরিবারে সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি উত্তর প্রদেশ পুলিশ। সেই বিষয়টি এদিনও উত্থাপন করেন রাহুল গান্ধী। নিজের জেদে অনড় থেকে শনিবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢড়াকে নিয়ে নির্যাতিতার পরিবারে সঙ্গে কথা বলেন তিনি। 

রবিবার পঞ্জাবে ট্র্যাক্টর ব়্যালিতে অংশ নিয়েছিলে ওয়াইনাডের সাংসদ রাহুল গান্ধী। সেখানে ট্র্যাক্টরে চড়েই সামিল হয়েছিল বিক্ষোভ সমাবেশে। তিনি কুশন দেওয়া সোফায় বসে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন বলে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরিন্দর সিং পুরী তাঁকে নিশানা করে বলেছিলেন সোফায় বসে প্রতিবাদ করা যায় না। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন রাহুল গান্ধী বিক্ষোভে সামিল হওয়া অনেকটা বিক্ষোভ পর্যটনের মত। এদিন সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েন কংগ্রেস সাংসদ। সেখানেও নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি করদাতের টাকায় ৮ হাজার কোটি টাকার এয়ার ইন্ডিরা বিমানে চড়তে পারেন তাহলে তিনি কেন একটি কুশন দেওয়া ট্র্যাক্টরে বসতে পারে না? সোফা দেওয়া ট্র্যাক্টরে বসা তাঁর কাছে কেন বিলাশিতা হবে- তাই নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।