দেশের বাকি অংশের নাগরিকরা যে সব আইনি সুযোগ সুবিধা পান, সরকারি প্রকল্পের যে সব সুবিধা পেয়ে থাকেন তা থেকে এতদিন বঞ্চিত ছিলেন জম্মু কাশ্মীরের দেড় কোটি মানুষ। কিন্তু ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর এই বৈষম্য আর থাকল না, বলেই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি বললেন, এবার বাকি দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উপত্যকাতেও ছুটবে উন্নয়নের রথ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে নরেন্দ্র মোদী জানান, এতদিন জম্মু কাশ্মীরের শিশুরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। সারা দেশের মহিলারা যেসব সুবিধা পান, তা মিলত না এই রাজ্যে। সাফাই কর্মচারী অ্যাক্ট, দলিত অত্যাচার বিরোধী আইন, সংখ্যালঘু উন্নয়ন থেকে ন্যুনতম বেতনের আইন - এতদিন এইসব কাশ্মীরে কাগজে কলমেই ছিল। কাজের কাজ কিছুই হত না।

জম্মু-কাশ্মীরে যেদিন থেকে রাজ্যপালের শাসন চলছে সেই দিন থেকেই রাজ্যে সুশাসনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ এতদিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ ফেলে রাখা হত। গত ৫-১০ বছর ধরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প আটকে রয়েছে। সেগুলির কাজ এইবার দ্রুত হয়ে যাবে বলেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদী।

শুধু তাই নয়, জম্মু কাশ্মীরের শিল্প, শিক্ষা, প্রযুক্তি সমস্ত কিছুর উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী দেশের বাকি অংশকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, একটা সময় বলিউডের ফিল্ম বানানো হত কাশ্মীরে। এইবার সারা পৃথিবী থেকে পরিচালকরা ফিল্ম বানাতে আসবেন উপত্যকায়। তাঁর মতে লাদাখ স্পিরিচুয়াল টুরিজম, অ্যাডভেঞ্চার টুরিজম এবং ইকো টুরিজমে দেশের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তিনি জানান, লাদাখে অনেক ভেষজ উপাদান রয়েছে, যার খবর প্রায় কেউ জানেন না। সেই সব অজানা ভেষজ উপাদান সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে হবে।