আদালতে বড় জয় পেল কৃষকরা। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট এক বিরাট রায়ে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রতিবাদী কৃষকদের মধ্যে অচলাবস্থার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রকে সদ্য প্রবর্তিত ৩ কৃষি আইন স্থগিত রাখতে হবে। তবে শীর্ষ আদালত এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই রায়ের মানে এই নয়, যে কৃষি আইন প্রয়োগের বিষয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেল। বিষয়টির সমাধানে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
 
সুপ্রিম কোর্ট-নির্দেশিত কমিটির সদস্যরা হলেন - ১) ভূপিন্দর সিং মান, ভারতীয় কৃষক সংগঠনের সভাপতি, ২) ডক্টর প্রমোদ কুমার যোশি, আন্তর্জাতিক নীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান, ৩) অশোক গুলাটি, কৃষি অর্থনীতিবিদ এবং ৪) অনিল ধনবত, শিবকেড়ি সংগঠন, মহারাষ্ট্র।

সোমবারই ভারতের প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে, বিচারপতি এএস বোপান্না এবং বিচারপতি ভি রামসুব্রামণিয়মের বেঞ্চ ইঙ্গিত দিয়েছিল, কেন্দ্র যদি কৃষি আইনের প্রয়োগ কার্যকর করা স্থগিত না রাখে, তাহলে শীর্ষ আদালতই তা করবে। বেঞ্চ বলেছিল, কেন্দ্রের আচরণ আদালত অত্যন্ত হতাশ। কেন্দ্রীয় সরকার এই সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে বলেই আদালতকে বিষযটির মধ্যে ঢুকতে হয়েছে।  কেন্দ্রের নয়া আইনের জন্য়ই এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, এবং এর সমাধানের দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছিল আদালত।

গত বছরের ২৬ নভেম্বর থেকে একটানা দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তের সিংঘু-তে কেন্দ্রের নযা প্রবর্তিত ৩ কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন কৃষকরা। বিষয়টি আদালতে পৌঁছনোর পর কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যে আইন প্রয়োগে  স্থগিতাদেশের কোনও দরকার নেই। কারণ এই আইনগুলি আইনানুগ যোগ্যতার বাইরে নয় বা কোনও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনকারী নয়। কৃষকদের বিক্ষোভ আঞ্চলিক এবং সেই বিক্ষোভ খালিস্তানী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে এবং এই বিক্ষোভগুলিতে টাকা ঢালছে তারাই, এমনটাও বলা হয়েছিল।  

কিন্তু, কেন্দ্রের সেইসব যুক্তি মানেনি সীর্ষ আদালত। ভারতের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে অবশ্য বুধবারের মধ্যে কেন্দ্রকে তাদের হলফনামায় কৃষকদের বিক্ষোভ নিয়ে তাদের যাবতীয় উদ্বেগের কথা জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।