সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের জেরে ভাঙা পড়বে দিল্লির শাস্ত্রী ভবন। তাই সেখান থেকে ১৩৫ বছরের পুরনো সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট লাইব্রেরি সরানোর জন্য কেন্দ্রের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল সুপ্রিম কোর্ট।
১৩৫ বছরের পুরনো সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট লাইব্রেরি (CSL) সরানোর বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার কেন্দ্রকে নোটিশ পাঠিয়ে আদালত জানতে চেয়েছে, এই লাইব্রেরি কোথায় সরানো হবে তার পুরো প্ল্যান হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে। বর্তমানে দিল্লির শাস্ত্রী ভবনে থাকা এই লাইব্রেরিতে সাড়ে ৮ লাখেরও বেশি বই ও জরুরি নথিপত্র রয়েছে।
CSL সরানোর বিষয়ে রিপোর্ট চাইল সুপ্রিম কোর্ট
বিচারপতি পিভি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের বেঞ্চ কেন্দ্রকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই হলফনামা জমা দিতে বলেছে। নতুন লাইব্রেরির জন্য ঠিক কতটা জায়গা দেওয়া হবে এবং তার লেআউট প্ল্যান কী, তা বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে। শুধু শাস্ত্রী ভবনের বই নয়, আরকে পুরমের ফেসিলিটিতে থাকা বইগুলোও নতুন জায়গায় ধরবে কি না, তা নিয়েও কেন্দ্রকে স্পষ্ট জবাব দিতে বলেছে শীর্ষ আদালত।
বেঞ্চ জানিয়েছে, "তিন সপ্তাহের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে হবে। ভারতের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল নোটিশ গ্রহণ করেছেন। প্রস্তাবিত প্ল্যান জানিয়ে একটি বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে হবে। লাইব্রেরির জন্য ঠিক কতটা জায়গা বরাদ্দ করা হবে এবং তার আসল লেআউট প্ল্যান কী, তা ওই রিপোর্টে থাকতে হবে।" এই মামলায় আদালতকে সাহায্য করার জন্য সিনিয়র আইনজীবী হরি প্রিয়া পদ্মনাভনকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের জন্য শাস্ত্রী ভবন ভেঙে ফেলা হবে। তাই সেখান থেকে সিএসএল সরানোর বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়ো মোটো) মামলা শুরু করেছে। শুনানির সময়, লাইব্রেরি সরানো নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের তোলা উদ্বেগের কথা মাথায় রাখে বেঞ্চ। বিশেষ করে আরকে পুরমে রাখা বইগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। বেঞ্চ বলে, "আপনারা (কেন্দ্রীয় সরকার) আরকে পুরমে থাকা ২ লাখ বই বাদ দিয়ে দিচ্ছেন। আপনাদের একটি সঠিক হলফনামা জমা দিতে হবে।" শুনানির শুরুতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি আদালতকে জানান, সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভেলপমেন্ট প্ল্যানে সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট লাইব্রেরির জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করা আছে।
সেন্ট্রাল সেক্রিটারিয়েট লাইব্রেরির
তবে প্রস্তাবিত জায়গা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিচারপতি পিভি সঞ্জয় কুমার। তিনি বলেন, এই লাইব্রেরির দীর্ঘ ইতিহাস এবং বিপুল বইয়ের সংগ্রহ ঠিকমতো সংরক্ষণ করা দরকার। কর্তব্য ভবনের মাত্র দুটি ঘরে এই লাইব্রেরি সরানোর যে প্ল্যান করা হয়েছে, তা আদৌ যথেষ্ট কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে থাকা এই সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট লাইব্রেরি তৈরি হয়েছিল ১৮৯১ সালে। তখন কলকাতায় এর নাম ছিল ইম্পেরিয়াল সেক্রেটারিয়েট লাইব্রেরি। ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে সরে যাওয়ার পর, লাইব্রেরিটিও দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৬৯ সাল থেকে এটি শাস্ত্রী ভবনেই রয়েছে। কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরির পর এটিই কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম লাইব্রেরি। বর্তমানে এটি চারটি ফ্লোর জুড়ে প্রায় ৫,৫০০ বর্গমিটার জায়গা নিয়ে রয়েছে। এখানে সাড়ে ৮ লাখেরও বেশি বই রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর দুষ্প্রাপ্য বই, সরকারি প্রকাশনা, অফিসিয়াল রেকর্ড, গেজেটিয়ার এবং ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নানা নথি।
সেন্ট্রাস ভিস্তা প্রকল্প
সেন্ট্রাল ভিস্তা এলাকার ভোলবদলের জন্যই এই লাইব্রেরি সরানোর কথা উঠেছে। কারণ, যে সরকারি ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হবে, তার মধ্যে শাস্ত্রী ভবনও রয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রক প্রথমে নতুন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটে লাইব্রেরির জন্য প্রায় ৫,৪৬৬ বর্গমিটার জায়গা চেয়েছিল।
কিন্তু আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনে থাকা ডিরেক্টরেট অফ এস্টেটস লাইব্রেরির জন্য কর্তব্য ভবন-২ তে মাত্র ৩০০ বর্গমিটারের দুটি ঘর বরাদ্দ করার প্রস্তাব দেয়। এরপরই সমস্যা শুরু হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে সংস্কৃতি মন্ত্রক আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রককে জানিয়ে দেয় যে, লাইব্রেরির বিপুল বই এবং অন্যান্য সুবিধার জন্য ওই প্রস্তাবিত জায়গা একেবারেই যথেষ্ট নয়। ওইটুকু জায়গায় পুরো লাইব্রেরি সরানো সম্ভব নয়।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এবার কেন্দ্রের লাইব্রেরি সরানোর প্ল্যান নিয়ে ধোঁয়াশা কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে। শাস্ত্রী ভবন এবং আরকে পুরমে ছড়িয়ে থাকা বিপুল বই নতুন জায়গায় ধরবে কি না, তা কেন্দ্রের রিপোর্টেই স্পষ্ট হবে।


