গুজরাত দাঙ্গায় নরেন্দ্র মোদীকে ক্লিনচিট দিয়ে 'নির্দোষ' বলেছিল স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট। তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন দাঙ্গায় নিহতদের পরিবার। এবার তাই নিহতের স্ত্রীর মুখেই শুনবে সুপ্রিম কোর্ট, সত্য়িই কি নির্দোষ ছিলেন মোদী।

২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারিতে গোধরায় সবরমতী এক্সপ্রেসের এস-৬ কোচে আগুন লাগে। যার ফলে পুড়ে মারা যান ৫৯ জন করসেবক। মুসলিমরা ওই আগুন লাগিয়েছে, এই গুজব ছড়িয়ে যায় আগুনের মতো। শুরু হয়ে কুখ্য়াত গুজরাত দাঙ্গা। তার ঠিক পরের দিনই, ২৮ ফেব্রুয়ারি গুলবার্গ সোসাইটি নামক একটি আবাসনের হামলা চালায় দাঙ্গাবাজরা। আবাসনের ৬৮জন বাসিন্দাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। নিহতদের মধ্য়ে ছিলেন, কংগ্রেস সাংসদ এশান জাফরি।

গুজরাত দাঙ্গার সময়ে রাজ্য়ের মুখ্য়মন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি দাঙ্গায় মদত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।  দাঙ্গা যখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছোয়, তখন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী গুজরাতে গিয়ে মোদীকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে 'রাজধর্ম পালনের' পরামর্শ দেন। এরপর এই দাঙ্গার জল গড়ায় অনেকদূর অবধি। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো কতদিন অটুট থাকবে, সেই প্রশ্ন তোলে দেশ-বিদেশের মিডিয়া। রীতিমতো সরকারি মদতে দাঙ্গা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে রাজ্য় সরকারের বিরাগভাজন হন সঞ্জীব ভাটের মতো আইপিএস অফিসার।

দাঙ্গা থেমে যাওয়ার পর তিস্তা শীতলাবাদের মতো অ্য়াক্টিভিস্টরা আদালতের দ্বারস্থ হন। বেস্ট বেকারিতে অগ্নিসংযোগ নিয়ে মামলা হয়। সাক্ষী তাঁর বয়ান পাল্টান বারেবারে। যার ফলে সাক্ষীর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ গুজরাত দাঙ্গার তদন্তে গঠিত হয় স্পেশ্য়াল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট। সিট তার তদন্তে মোদীকে নির্দোষ বলে ক্লিনচিট দেয়। যাতে ক্ষুব্ধ হন দাঙ্গায় নিহতদের পরিবার।

এদিকে মোদীকে ক্লিনচিট দেওয়ায় সিটকে চ্য়ালেঞ্জ করে গুজরাত হাইকোর্টে যান নিহত সাংসদ এশান জাফরির স্ত্রী  জাকিয়া জাফরি। কিন্তু আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। এরপর সুপ্রিম কোর্টে যান জাকিয়া। বিচারপতি খান উইলকার ও দীনেশ মাহেশ্বরীর বেঞ্চ এদিন বলে, বারেবারেই পিছিয়ে গিয়েছে এই মামলার শুনানি। এপ্রিলের ১৪ তারিখে আদালত শুনবে জাকিয়ার আর্জি। অর্থাৎ, দাঙ্গায় মোদী আদৌ 'নির্দোষ' ছিলেন কিনা নতুন করে তার বিচার শুরু হতে চলেছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।