দিল্লিতে চলা কৃষক আন্দোলন নিয়ে রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। কৃষক আন্দোলন নিয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ সোমবার বলেছে, কৃষক বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার জন্য কেন্দ্র ও কৃষকদের মধ্যে যেভাবে আলোচনা চলছে তা অত্যান্ত হতাশ করেছে তাদের। একই সঙ্গে দেশের কোনও প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। এদিনের মত শুনানি শেষ হয়েছে। 


নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারে দাবিতে গত ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। পুরুষদের পাশাপাশি অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন মহিলা ও শিশুরাও। দিনের পর দিনরাত তাঁরা রাজপথে কাটাচ্ছেন। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সুপ্রিম কোর্ট আপাতত কৃষি আইনের ওপর স্থতিতাদেশ জারি করার কথা বলেছে। কেন্দ্র সেই সেই পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে সুপ্রিম কোর্টই পদক্ষেপ করবে বলেও জানিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে নিয়ে আজ অথবা কাল একটি নির্দেশ দেবে শীর্ষ আদালত।


অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্য সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, কেন্দ্রকে দীর্ঘ সময় দেওয়া হয়ে। আর সেই কারণেই ধার্য্য নিয়ে তাঁদের কোনও বক্তৃতা না দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বিচারপতি এএস বোপান্না ও ভি ভি রামসুব্রাহ্মণিয়মের সমন্বয় বেঞ্চে বলেছেন কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতি সামাল দেওয়া জন্য কঠোর পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কেন্দ্র সমস্যা সমাধানের অংশ না শুধুমাত্র সমস্যার অংশ। কৃষক আন্দোন ইস্যুতে সরকারের ভূমিকা নিয়েও সুপ্রিম কোর্ট হতাশ বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে সমস্যা সমাধানে কী কী পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল তা এখনও পর্যন্ত জানে না সুপ্রিম কোর্ট। 

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের মত প্রতিবাদ করার কথাও বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে এদিন আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ২৬ জানুয়ারি প্রস্তাবিত ট্র্যাক্ট প্যারেড কর্মসূচি থেকে সরে আসছে তারা। আন্দোলন স্থানে প্রায় ৪০০ টি কৃষক সংগঠনের দেড় লক্ষেরও বেশি কৃষক বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।