তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের একটি জনস্বার্থ মামলার নিষ্পত্তি করল সুপ্রিম কোর্ট। বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল (AIF) এবং বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) প্রকৃত মালিক ও বিনিয়োগের পোর্টফোলিওর তথ্য প্রকাশ্যে আনার জন্য সেবি-কে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেছিলেন তিনি।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের একটি জনস্বার্থ মামলার নিষ্পত্তি করল সুপ্রিম কোর্ট। বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল (AIF) এবং বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) প্রকৃত মালিক ও বিনিয়োগের পোর্টফোলিওর তথ্য প্রকাশ্যে আনার জন্য সেবি-কে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু আদালত জানিয়েছে, এ ধরনের বাধ্যতামূলক প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো না থাকলে আদালত সেই নির্দেশ দিতে পারে না। মহুয়া মৈত্রের আবেদনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের শেয়ার বাজারে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা। তাঁর দাবি ছিল, AIF ও FPI-র মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংস্থা শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কোন কোন সংস্থার শেয়ারে টাকা ঢালছে, সেই তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হোক।

আবেদনকারীর আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে যুক্তি দেন, বিনিয়োগের প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ্যে না থাকলে শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানো বা কমানোর মতো কারসাজির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন, বিচারপতি আর মহাদেবন এবং বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ের বেঞ্চ জানায়, কোনও নির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা থাকলে এবং সেবি তা কার্যকর না করলে আদালত সেই আইন মেনে চলার নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু এমন কোনও আইনি কাঠামো না থাকলে আদালত নিজে থেকে নতুন বাধ্যতামূলক প্রকাশব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দিতে পারে না। শুনানির সময় আদালত আরও প্রশ্ন তোলে, মহুয়া মৈত্র কেন এই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করে আলোচনা চাইলেন না।

AIF ও FPI কী?

- AIF (Alternative Investment Fund): প্রচলিত মিউচুয়াল ফান্ডের বাইরে নির্দিষ্ট নিয়মে পরিচালিত বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ ও আর্থিক উপকরণে বিনিয়োগ করা হয়।

- FPI (Foreign Portfolio Investor): বিদেশি বিনিয়োগকারী, যাঁরা বা যে সংস্থাগুলি ভারতের শেয়ার, বন্ড-সহ বিভিন্ন আর্থিক উপকরণে বিনিয়োগ করেন।

- Beneficial Owner: কোনও বিনিয়োগ বা সম্পদের পিছনে থাকা প্রকৃত ব্যক্তি, যিনি শেষ পর্যন্ত তার মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণের অধিকারী।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে AIF ও FPI-র বিনিয়োগের কোনও তথ্যই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে থাকে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিনিয়োগের তথ্য সেবি বা সংশ্লিষ্ট কাস্টডিয়ানের কাছে জমা পড়ে; কিন্তু আবেদনকারীর দাবি অনুযায়ী সমস্ত প্রকৃত মালিক ও পোর্টফোলিওর তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য যে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো প্রয়োজন, তা নেই।