কেন গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহকে? তা জানতে চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং জম্মু কাশ্মীর প্রশাসনকে নোটিশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এমডিএমকে নেতা ভাইকোর করা আবেদনের ভিত্তিতেই এই নোটিশ জারি করেছে শীর্ষ আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। 

আদালতে আবেদন করে ভাইকো জানান, ফারুক আবদুল্লাহ দীর্ঘ চার দশক ধরে তাঁর বন্ধু। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তিনি। ফারুক আবদুল্লাহকে আদালতে হাজির করানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন এমডিএমকে নেতা। প্রসঙ্গত কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই গত ৫ অগাস্ট ফারুক আবদুল্লাহকে গৃহবন্দি করা হয়। 

এর পরেই প্রধান বিচারপতি  রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি এসএ বোরদে এবং এসএ নাজিরের ডিভিশন বেঞ্চ ভাইকোর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র এবং কাশ্মীর প্রশাসনকে নোটিশ জারি করে। 

এ দিকে রবিবার রাত থেকেই ফারুক আবদুল্লাকে জম্মু কাশ্মীরের জনসাধারণের নিরাপত্তা আইনের অধীনে গৃহবন্দি করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এই আইন অনুযায়ী বিচারপর্ব শুরু না করেও দু' বছর পর্যন্ত কাউকে বন্দি করে রাখা যায়। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানির আগের দিনই ফারুক আবদুল্লাকে পিএসএ আইনে বন্দি করার সিদ্ধান্ত নিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। মনে করা হচ্ছে, জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বন্দি করে রাখার স্বপক্ষে যেহেতু যথাযথ কাগজ ছিল না কেন্দ্রের কাছে, তাই এই আইনে ফারুক আবদুল্লাহকে বন্দি রেখে আদালতে বিড়ম্বনা এড়াল কেন্দ্রীয় সরকার। বন্দি থাকাকালীন অবশ্য বন্ধু, পরিচিত বা আত্মীয়রা এসে ফারুক আবদুল্লার সঙ্গে দেখা করে যেতেই পারেন। 

অন্যদিকে এ দিনই কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদকে কাশ্মীর যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সু্প্রিম কোর্ট। শ্রীনগর, জম্মু, বারামুলা, অনন্তনাগ- এই চারটি জায়গায় যেতে পারবেন গুলাম নবি আজাদ।