'প্রতি বছর দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দিল্লির। আর কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না। প্রতি বছরই ১০-১৫ দিনের জন্য এক অবস্থা হচ্ছে। কোনও সভ্য দেশে এরকম হয়না। জীবনের অধিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।' - রাজধানীর বায়ু দূষণ নিয়ে এরকমই চাঁছাছোলা ভাষায় সরকারকে ভর্তসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। অরবিন্দ জেৃকেজরিওয়াল থেকে নরেন্দ্র মোদী কেউই পার পেলেন না। সোমবার আদালতে কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লি, হরিয়ানা, পঞ্জাবের রাজ্য সরকার - সবাইকে প্রায় ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড়াতে হল।

সরকারের অদক্ষতা নিয়ে রীতিমতো আগুন ঝড়ায় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য এভাবে বাঁচা যায় না। কেন্দ্র থেকে রাজ্য কোনও সরকারই এর দায় এড়াতে পারে না। এভাবে চলতে পারে না। আদালত বলে, দিল্লিতে বাড়ির মধ্যে থাকাটাও এখন নিরাপদ নয়। প্রতি বছর এর জন্য দিল্লিবাসী তাদের জীবনের অনেকগুলি মূল্যবান বছর হারাচ্ছেন।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট রাজনীতির কারবারিদের ঠুকে বলে, নাকের নীচে এমন বিপদ ঘটে চলেছে, আর তা দেখেও বিদ্রূপ করা হচ্ছে। বিচারপতি অরুণ মিশ্র বলেন, সরকারে চিন্তা শুধু ভোট নিয়ে, মানুষের প্রতি কোনও কর্তব্যবোধ নেই। সবাই গিমিক আর ভোট নিয়েই আগ্রহী। এসব আর সহ্য করা হবে না বলে কড়া ভাষায় কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারকেই সতর্ক করেছে আদালত।

এদিন দিল্লির পরিস্থিতি মারাত্মক বলে উল্লেখ করে আদলত কেন্দ্র এবং দিল্লি সরকারের কাছে দূষণ প্রতিরোধে তাদের পরিকল্পনা জানতে চায়। একই সঙ্গে খড় পোড়ানো কমাতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্য সরকারকে।