কর্ণাটকের ১০ বিধায়কের পদত্যাগে এবার সুপ্রিম কোর্টের স্থিতাবস্থা। যার জেরে অন্তত মঙ্গলবার পর্যন্ত আটকে গেল কংগ্রেস ও জেডিএস সরকারের পতন। কারণ মঙ্গলবার পর্যন্ত বিদ্রোহী ১০ বিধায়কের ইস্তফা মামলায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। কর্ণাটক বিধানসভার অধ্যক্ষ যাতে এই নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না নেন তাও শুক্রবার জানিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগই, বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু এবং বিচারপতি দীপক গুপ্ত-র বেঞ্চ। তিন বিচারপতি-র এই বেঞ্চ এই মামলাকে 'ওজনদার ইস্যু' বলেও মন্তব্য করে। ১০ বিধায়কের ইস্তফা মামলার সঙ্গে জুড়েছে বিধানসভার অধ্যক্ষ কেআর রমেশ কুমার  ও মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী-র মামলাও। ফলে আলাদা আলাদা করে তিনটি মামলা না শুনে একই সঙ্গে তিনটি মামলার সওয়াল-জবাব-এর পক্ষে শীর্ষ আদালত। 

সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতি বেঞ্চ এদিন কর্ণাটক বিধানসভার অধ্যক্ষের তোলা আর্টিকল ৩২-এর বিষয়টিকে মান্যতা দিয়েছে। কারণ, কেন ১০ বিধায়কের ইস্তফা গ্রহণযোগ্য নয় তা আর্টিকল ৩২ অনুযায়ী দেখা উচিত বলে আগেই জানিয়েছিলেন অধ্যক্ষ কেআর রমেশ কুমার। তবে, এই বিধায়কদের ইস্তফাগ্রহণ করা বা বাতিল করার কোনও অধিকার যাতে অধ্যক্ষ প্রয়োগ করতে না পারেন তাতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। 

এদিন মামলাকারী বিধায়কদের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মুকুল রোহাতগি। তিনি কর্ণাটক বিধানসভার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্পষ্টতই সরকারে বাঁচানোর ষড়যন্ত্রে সামিল থাকার অভিযোগ করেন। রোহাতগি বলেন,  অধ্যক্ষ যে দাবিতে ইস্তফাপত্র গ্রহণ করতে চাইছেন না তা ঠিক নয়। যদি ডিসকোয়ালিফিকেশন নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার ছিল তা ইস্তফা পাওয়ার আগেই কেন তিনি নেননি? এমন প্রশ্নও করেন। এমনকী কীভাবে একজন বিধানসভার অধ্যক্ষ মিডিয়ার সামনে পদত্যাগী বিধায়কদের ' গো টু হেল' বলে শাসানি দিতে পারেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রোহাতগি। 

কর্ণাটক বিধানসভার অধ্যক্ষ কেআর রমেশ কুমাারের হয়ে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তিনি জানান, স্পিরকার সাংবাধিনকভাবে দায়বদ্ধ এবং তিনি পদত্যাগী বিধায়কদের বিষয়টি সংবিধান মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনকী, অধ্যক্ষ কেআর রমেশ কুমারকে তিনি একজন সিনিয়র রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবেও উল্লেখ করেন। 

কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী-র হয়ে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন রাজিব ধবান। তিনি জানান স্পিকার-কে আগে থেকে নোটিশ না দিয়েই আদালত একটা রায় পাশ করে দিয়েছিল। বলতে গেলে তর্ক-বিতর্কে এদিন জমে ওঠে এই মামলা। প্রসঙ্গত শনিবার থেকে কর্ণাটকে কংগ্রেস ও জেডিএস সরকারের জোট থেকে একের পর এক বিধায়ক পদত্যাগ করেন। পদত্যাগকারী মোট ১৮জন বিধায়কের মধ্যে কংগ্রেস ও জেডিএস জোট-এর সদস্য ছিলেন ১৬ জন। নির্দল বিধায়ক ছিলেন দু'জন। তাঁরা গত মঙ্গলবার দিন বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে নিজেদের ইস্তফাপত্র জমা দিলে আটজনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি তিনি। তাঁর দাবি শুধু চিঠি দিলেই এইসব কাজ হয় না। এরপর সুপ্রিম কোর্ট  কর্ণাটকের বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের সঙ্গে অধ্যক্ষকে দেখা করার নির্দেশও দেন। কিন্তু, অধ্যক্ষ সাফ জানিয়ে দেন আলোর গতিতে কাজ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে কর্নাটক বিধানসভায় কংগ্রেস-জেডিএস জোট-এর দখলে ১১৮টি আসন রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার যদি শীর্ষ আদালতের তরফ থেকে বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের ইস্তফা গ্রহণ করা হয় তাহলে সেই সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়াবে ১০০-তে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যে ১১৩টি আসন পেতে হত তাও গিয়ে দাঁড়াবে ১০৫-এ।