সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এই ধরনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গোটা দেশকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। সরকার চোখ বন্ধ করে বসে আছে। এটি খুব দুর্ভাগ্যজনক। 

পতঞ্জলির মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন মামলায় এবার কেন্দ্র সরকারকে নিশানা করল সুপ্রিম কোর্ট। যোগগুরু রামদেবের মালিকানাধীন সংস্থা পতঞ্জলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, 'কেন্দ্র সরকার চোখ বন্ধ করে বসে আছে।'

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এই ধরনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গোটা দেশকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। সরকার চোখ বন্ধ করে বসে আছে। 'এটি খুব দুর্ভাগ্যজনক। সরকারকে অবিলম্বে কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে।' বেঞ্চ কোম্পানিকে অবিলম্বে বিভ্রান্তকর তথ্য প্রদানকারী ওষুধের সমস্ত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট বিজ্ঞাপন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট গত নভেম্বরে পতঞ্জলি আয়ুর্বেদকে ওষুধ সম্পর্কে বিজ্ঞাপনে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবি করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিল। আগেও সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, 'ইনি গুরু স্বামী রামদেব বাবা। শেষ পর্যন্ত আমরা তাঁকে সম্মান করি। তিনি যোগব্যায়মকে জনপ্রিয় করেছিলেন। আমরা সকলে এটির জন্য তাঁকে সম্মান করি। কিন্তু অন্য ব্যবস্থার সমালোচনা করা উচিৎ নয়। আপনি বিজ্ঞাপনের ধরন দেখেন, যেন সমস্ত ডাক্তারটের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। বলা হয় তারা খুনি বা অন্য কিছু। ' পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট বিভ্রান্তিকর চিকিৎসা বিজ্ঞাপনের ইস্যুটির প্রতিকার খুঁজতে কেন্দ্রের আইনজীবীকেও বলেছিল।

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনের উল্লেখ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনগুলিতে আধুনিক অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ না খেতেই পরামর্শ দিয়েছিল।

এর আগে শীর্ষ আদালত ২৩ অগাস্ট ২০২২ সালে টিকা অভিযান ও অধুনিক ওষুধের বিরুদ্ধে রামদেবের বক্তব্যের বিরুদ্ধে IMA কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও আয়ুশ ও পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ লিমিটেডকে নোটিশ জারি করেছে। সংক্ষিপ্ত শুনানির সময় বেঞ্চ পতঞ্জলি আয়ুর্বেদকে আধুনিক ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর দাবি ও বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে বলেছিল।

সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, আগামী দিনে রামদেবের সংস্থা যদি অসুস্থতা নিরাময় নিয়ে একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে মিথ্যা দাবি করে তাহলে প্রতিটি পণ্যের ওপর ১ কোটি টাকা জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। আর সেই কারণে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি নিয়ে বিবেচনাও করতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের পক্ষ থেকে উপস্থিত আইনজীবীকে বিভ্রান্তিকর চিকিৎসা বিজ্ঞাপনের ইস্যুটির একটি প্রতিকার খুঁজে বের করতে বলেছিল, কারণ সেখানে নির্দিষ্ট কিছু রোগের নিখুঁত নিরাময় করে এমন ওষুধের বিষয় দাবি করা হয়েছে।