লাদাখে উত্তেজনার মধ্যেই সেনা পর্যায়ের আলোচনা চলছে ভারত ও চিনের মধ্যে। বৈঠকে বিতর্কিত জায়গা থেকে দুই দেশের সেনা প্রত্যাহারই জরুরি বলে বার্তা দিয়েছে ভারত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের স্পষ্ট বক্তব্য, বৈঠকে দুই দেশের যেমন আলোচনা হচ্ছে, তেমনই লাদাখের মাটিতেও সেই রেশ বজায় রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার চিনের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের আলোচনার পর বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈটকে জানান হয়েছে, শান্তি ফেরানোর পথ দেখা যাচ্ছে। তবে এর মধ্যেই সাম্রাজ্যবাদী চিন নয়া শর্ত আরোপ শুরু করেছে।

 বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব দাবি করেছেন,  দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় লাদাখে স্থিতাবস্থা ফেরানোর জন্য সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। লাদাখে শান্তি বজায় রাখতে সীমান্তে সম্পূর্ণ সেনা সরানো নিয়ে আলোচনা চলছে। বিতর্কিত এলাকা থেকে দুই দেশের সেনাকেই সরানোর কথা বলেছে ভারত। পাশাপাশি সীমান্তে শান্তি দীর্ঘস্থায়ী করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। পাশাপাশি বেজিংয়ের অনৈতিক শর্ত মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক।

দিল্লি স্পষ্ট বলছে, ভারত সেনা সরালে বেজিংকেও বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা সরাতে হবে। কোনও রকম আপোস এই বিষয়ে চলবে না। জানা যাচ্ছে লাদাখ পরিস্থিতি নিয়ে ফের সেনা পর্যায়ের বৈঠকে বসছে দুই দেশ। 

এদিকে, নাছোড়বান্দা চিনের দাবি করছে,  সেনা সরানোর বিষয়ে প্রথমে ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে। শোনা যাচ্ছে বৈঠকে  চিন বলেছে, ভারত লাদাখে যে সমস্ত উঁচু শৃঙ্গ দখল করে রেখেছে , তা থেকে সেনা সরাতে হবে। ভারতীয় সেনা সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্যানগংয়ের দক্ষিণ প্রান্ত নিয়ে চিন বেশি সরব। সেখানের বিভিন্ন 'স্ট্র্যাটেজিক হাইট' বা চূড়া দখলে রেখেছে ভারত। যা যুদ্ধনীতির ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য। আর সেটাই মেনে নিতে পারছে না লালফৌজ। ড্রাগনবাহিনীর দাবি, এই উঁচু এলাকা ভারতসকলে  তবেই চিন বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। যদিও চিনের এই আবদারকে আমল দিতে নারাজ ভারত। কোনও অনৈতিক শর্ত মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।