নতুন শিক্ষানীতি অনুযায়ী  সমস্ত স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষায় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি সংস্কৃত শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক স্তর থেকেই ইংরেজি শিক্ষা বা বিদেশীভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা কার্যকর হবে। বুধবারই কেন্দ্রীয় সরকার নতুন শিক্ষানীতি বা ন্যাশানাল এডুকেশন পলিসি -২০২০ জারি করেছেন। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন শিক্ষানীতিতে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি বলেছেন এটি শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ও বহু প্রতীক্ষিত সংস্কার। 

নতুন শিক্ষা নীতি অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষা বা আঞ্চলিক বা স্থানীয় ভাষা সমস্ত স্কুলে শিক্ষার মাধ্যম হবে। সংস্কৃতভাষা শিক্ষার ওপরেও রীতিমত জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে যেকোনও বিদেশি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে মাধ্যমিক স্তর থেকে পাশাপাশি বলা হয়েছে কোনও শিক্ষার্থীর ওপরে কোনও ভাষা চাপিয়ে দেওয়া হবে না। যদিও স্কুলে হিন্দি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে, এই অভিযোগ তুলে দক্ষিণের রাজ্যগুলি অনেক আগে থেকেই সরব হয়েছিল। 

নতুন শিক্ষানীতিতে  ১০+২ পরিকাঠামো পরিবর্তে ৫ +৩+ +৩+ ৪  করা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায়র সঙ্গে আরও তিন বছর যোগ করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম তিন বছর প্রাক প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রাক প্রাথমিক স্তরের জন্য সারা দেশে একটি অ্যাকটিভি ও লার্লিং বেসড শিক্ষানীতি তৈরি করা হবে বলে জানান হয়েছে। অর্থাৎ নতুন শিক্ষানীতির আওতায় ৩-১৮ বছরের পড়ুয়াদের আনা হচ্ছে। আর এই শিক্ষানীতিতে রীতিমত গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা। হাতে কলমে শিক্ষার ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। 

মন্ত্রকের তরফে জানান হয়েছে দশম শ্রেণির পর কলা বিজ্ঞাণ আর বাণিজ্য বিভাগের পার্থক্য উঠে যাচ্ছে। যার অর্থ কোনও পড়ুয়া পদার্থ বিদ্যা নিয়ে পড়লেও ফ্যাশান ডিজাইনিং ও রয়াসন পড়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি জানান হয়েছে অষ্ঠম শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষা বা আঞ্চলিক ভাষায়  শিক্ষা ঐচ্ছিক করা হয়েছে। 

নতুন এই শিক্ষানীতিতে স্কুল ছুটদের আবারও ফিরে আসার জায়গা রয়েছে। সকলের জন্য শিক্ষা এই ব্যবস্থাই কার্যকর হবে এই নীতিতে। স্নাতক স্তরে প্রথম এক বছরের জন্য সার্টিফিকেট, দ্বিতীয় বছরেরর জন্য ডিপ্লোমা আর চার বছরের জন্য ডিগ্রি দেওয়া হবে।