টাকার বিনিময় প্রশ্ন-কাণ্ডে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে রায় পুনর্বিবেচনার জন্য দিল্লি হাইকোর্টের কাছে আরও দুই মাস সময় চেয়েছে লোকপাল। 

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে 'টাকার বিনিময় প্রশ্ন' (Cash for Query Case) অভিযোগে নতুন করে রায় দেওয়ার জন্য দিল্লি হাইকোর্টের কাছে আরও দুই মাস সময় চেয়েছে ভারতের লোকপাল। বিচারপতি বিবেক চৌধুরী এবং বিচারপতি রেনু ভাটনাগরের ডিভিশন বেঞ্চের সামনে এই আবেদন করা হয়। লোকপালের আইনজীবী জানান, শীতকালীন ছুটির কারণে শুনানি না হওয়ায় হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া এক মাসের সময়সীমা মেনে চলা সম্ভব হয়নি। লোকপাল ও লোকায়ুক্ত আইনের বিধান মেনে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলে যুক্তি দেওয়া হয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আদালতের নির্দেশ

আবেদন বিবেচনার পর, বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে মামলাটি সেই একই ডিভিশন বেঞ্চের সামনে পেশ করা হোক, যা ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ মৈত্রের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের জন্য সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (CBI) দেওয়া লোকপালের পূর্ববর্তী অনুমোদন বাতিল করেছিল। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬।

ডিসেম্বরের রায়ে হাইকোর্ট লোকপালকে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করে এক মাসের মধ্যে একটি যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। মৈত্রের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত লোকপালের ১২ নভেম্বরের অনুমোদনের আদেশটি বাতিল করে দেয় এবং জানায় যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল। হাইকোর্ট জোর দিয়ে জানায় যে, রেকর্ডে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে মামলা চালানো, ক্লোজার রিপোর্ট দেওয়া বা আইন অনুযায়ী অন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় কি না, তা লোকপালকে স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

মহুয়া দাবি করেছিলেন যে, লিখিত জবাব দাখিল এবং মৌখিক শুনানির জন্য আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও তার বক্তব্য সঠিকভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি। তিনি আরও যুক্তি দিয়েছিলেন যে লোকপাল ভুলবশত লোকপাল ও লোকায়ুক্ত আইনের ধারা ২০(৭)-এর পরিবর্তে ধারা ২০(৮) প্রয়োগ করেছে, যেখানে ধারা ২০(৭) বিশেষভাবে মামলা চালানোর অনুমোদনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর আগে তার আবেদনের বিরোধিতা করে, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস. ভি. রাজুর প্রতিনিধিত্বে সিবিআই জানিয়েছিল যে, মহুয়ার মৌখিক শুনানির কোনো আইনগত অধিকার নেই এবং লোকপাল কঠোরভাবে আইন মেনেই কাজ করেছে, এমনকি আইনের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সুযোগ তাকে দিয়েছে। অভিযোগকারীর আইনজীবীও লোকপালের মূল সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন।

টাকার বিনিময় প্রশ্ন-কাণ্ড

মামলাটির সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে আইনজীবী জয় অনন্ত দেহাদ্রাইয়ের দায়ের করা একটি অভিযোগ থেকে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে লোকপাল বিষয়টি সিবিআই-এর কাছে পাঠায়। সিবিআই ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট এবং ২০২৪ সালের জুনে একটি বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। মহুয়ার জবাব বিবেচনা এবং তার বক্তব্য শোনার পর, লোকপাল ১২ নভেম্বর মামলা চালানোর অনুমোদন দেয়, যা পরে হাইকোর্ট বাতিল করে দেয়।