শুধু চিকিৎসা করেই দায় সারেননি তিনি। চিকিৎসার পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃতদেহ শ্মশান পৌঁছে দিয়ে এলেন চিকিৎসক। তেলাঙ্গনার বাসিন্দা পেন্ডিয়ালা শ্রীরাম পেড্ডাপল্লি জেলা হাসপাতালে কর্মরত। রবিবার বিকেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালেরই এক রোগীর মৃত্যু হয়। তারপর চিকিৎসক নিজের উদ্যোগে আক্রান্ত রোগীকে পৌঁছে দিয়েছিলেন শ্মশানে। তাই করোনা যোদ্ধার এই ভিডিই ভাইরাল হয়ে যায় চোখের নিমেশে। 

চিকিৎসকের কথায় রবিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে মৃত্যু হয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীর। পেড্ডাপল্লি সরকারি হাসপাতালে এটিই ছিল প্রথম মৃত্যু। তাই জেলা হাসপাতালের কর্মীদের কাছে পুরো বিষয়টাই ছিল অজনা। চিকিৎসক জানিয়েছে জেলা হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানতেন না কী করে স্বাস্থ্য বিধি মেনে করোনা রোগীর মৃত্যু সৎকার করতে হবে।  পাশাপাশি হাসপাতালে মর্গের ব্যবস্থাও বেহাল। একজন মাত্র মহিলা মেডিক্যাল অফিসার রয়েছে। তাই পুরো দায়িত্বটি তিনি নিজের ঘাড়ে তুলে নিয়েছিলেন। 

চিকিৎসকের কথায় কোনও অ্যাম্বুলেন্সই করোনা রোগীর দেহ নিয়ে যেতে রাজি হয়নি। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মৃতের আত্মীয়া যথেষ্ট উদ্বেগে ছিলেন।  তাই তড়িঘড়ি সৎকারের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে একটি গাড়ির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।  কিন্তু গাড়ির বদলে স্থানীয় পুরসভা একটি ট্র্যাকটর পাঠিয়ে দেয়। চালক মৃতদেহ বহন করতে রাজি না হওয়ায় সেই ট্র্যাকটর চালিয়ে শ্মশানে নিয়ে যান তিনি। 


ব্যক্তিহত সুরক্ষা সরঞ্জাম পরে চিকিৎসকই ট্র্যাকটর চালিয়ে স্থানীয় শ্মশানে নিয়ে যান মমৃতদের। চিকিৎসক জানিয়েছেন ছুটির দিন তিনি বাড়িতে চাষের কাজ করেন। সেই সুবাদেই ট্রাকটর চালাতে জানেন। তাই তাঁর কোনও সমস্যা হয়নি।