চিনকে অর্থনৈতিক ভাবে চাপে ফেলতে কোনও কসুর রাখছে না ভারত। লাদাখে গত ১৫ জুন ভারত ও চিনা সেনার মুখোমুখি সংঘর্ষের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। লাদাখ সীমান্তে লাল ফৌজের দখলদারি মজবাব দিতে তারপর থেকেই চিনকে বাণিজ্যিক ভাবে কোনঠাসা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। রেল ও টেলিকম ক্ষেত্রে বাতিল হয়েছে চিনা সংস্থার সঙ্গে একাধিক চুক্তি। ড্রাগনের আগ্রাসী মনোভাবের পাল্টা দিতে টিকটক-সহ বহু চিনা মোবাইল অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে মোদী সরকার। আসন্ন আইপিএল থেকে সরানো হয়েছে চিনা স্পনসরকে। সেই চিনা বর্জনের তালিকাতে এবার জুড়ল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস তৈরির টেন্ডারও। চিনা সংস্থা আবেদন করায়  ৪৪ টি সেমি-হাইস্পিড "বন্দে ভারত" ট্রেন তৈরির টেন্ডারই বাতিল করে দিল ভারতীয় রেল।

 

 

জানা যাচ্ছে ‘বন্দে ভারত’ এক্সপ্রেস ট্রেন তৈরির প্রকল্পের জন্য আগামী সপ্তাহে নতুন টেন্ডার ডাকা হবে। কেন্দ্রের মেক ইন ইন্ডিয়া প্রোগ্রামকে অগ্রাধিকার দিয়েই গোটা বিষয়টাই করা হবে। রেল মন্ত্রকের করা ট্যুইটে লেখা হয়েছে, “৪৪টি সেমি হাই স্পিড ট্রেন (বন্দে ভারত) তৈরির টেন্ডার বাতিল করা হল। এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন টেন্ডার প্রকাশ করা হবে। সেখানে মেক ইন্ডিয়া প্রকল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন: বড়সড় নাশকতার ছক রাজধানীতে, ১৫ কেজি আইইডি সহ দিল্লি থেকে গ্রেফতার আইএস জঙ্গি

যেভাবে টেন্ডার বাতিল করা হলো ভারতের পক্ষ থেকে তাতে চিন যে বিরাট  ধাক্কা খেল তা নিয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই। জানা গিয়েছে, গত মাসে ৪৪টি সেমি হাই স্পিড বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের  জন্য টেন্ডার ডেকেছিল ভারতীয় রেল। সেই অনুযায়ী দরপত্র জমা দেয় সিআরআরসি পাইওনিয়র ইলেকট্রিক (ইন্ডিয়া) প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি সংস্থা। এটি আসলে একটি চিনা সংস্থা। এর সঙ্গে গুরুগ্রামের পাইওনিয়র ইলেকট্রিকের যৌথ উদ্যোগে  সেমি হাইস্পিড ট্রেন তৈরির কথা ছিল। 

আরও পড়ুন: ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও চিনের প্রভাব খাটানোর চক্রান্ত ফাঁস, বেজিংকে আটকাতে কড়াকড়ি ভিসা নীতিতে

সূত্রের খবর, পুরো প্রকল্পটির মোট অর্থমূল্য ছিল প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। শুক্রবার রাতে রেলের তরফে ট্যুইট করে টেন্ডারটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। ঠিক কী কারণে এই টেন্ডার বাতিল হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি রেল।

জানা গিয়েছে  ৪৪টি বন্দে ভারত ট্রেন তৈরির টেন্ডারে অংশ নিয়েছিল ছ’টি সংস্থা। তাদের মধ্যে একমাত্র বিদেশি সংস্থা ছিল সিআরআরসি পায়োনিয়ার ইলেকট্রিক (ইন্ডিয়া) প্রাইভেট লিমিটেড। চিনের সংস্থা সিআরআরসি ওনজি ইলেকট্রিক কোম্পানি লিমিটেড ও গুরুগ্রামের পাইওনিয়র ফিল-মেড প্রাইভেট লিমিটেড যৌথ ভাবে ২০১৫-তে গড়েছিল ওই সংস্থা। তবে এই সংস্থার বেশির ভাগ অংশিদারিত্ব চিনা সংস্থাটিরই। এই চিনা সংস্থা ছাড়াও ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যাল লিমিটেড (ভেল), সাঙ্গুরের ভারত ইন্ডাস্ট্রিজ, নভি মুম্বইয়ের পাওয়ারনেটিক্স ইকুইপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, হায়দরাবাদের মেধা গ্রুপ ও হিমাচল প্রদেশের ইলেক্ট্রোওয়েভ ইলেকট্রনিক প্রাইভেট লিমিটেড টেন্ডারে যোগ দিয়েছিল।

ঠিক কী কারণে এই টেন্ডার বাতিল হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি রেল। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, চিনা সংস্থা বরাত পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকার দরুনই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, রেল চাইছিল কোনও ভারতীয় সংস্থা এই বরাত পাক। কিন্তু বরাত পাওয়ার দৌড়ে ওই চিনা সংস্থা সুবিধাজনক অবস্থায় আছে দেখে টেন্ডার বাতিল করা হল। চেন্নাইয়ে রেলের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি ১০ জুলাই এই টেন্ডার প্রকাশ করেছিল। ৪৪টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন, যার প্রতিটিতে থাকবে ১৬টি কোচ। সেগুলি তৈরির জন্যই এই টেন্ডার।

নতুন করে টেন্ডার ডেকে ভারতীয় সংস্থাকে বরাত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রেল। দেশীয় সংস্থার মুনাফা বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে রেল। চেন্নাইয়ের একটি সংস্থাকে বাড়তি গুরুত্বও দেওয়া হচ্ছে বলে খবর। ভারতে গত বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লি থেকে বারাণসীর মধ্যে  প্রথম বন্দে ভারত ট্রেনের সূচনা করছিলেন।