সুপ্রিম কোর্টের নতুন বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন তিন প্রধান বিচারপতি। এর ফলে শীর্ষ আদালতে বিচারপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৭।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন তিন নতুন বিচারপতি। তাঁরা হলেন বিচারপতি সুনীতা আগরওয়াল, বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি অপরেশ কুমার সিং। এর আগে তাঁরা তিনটি ভিন্ন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টে ৩ বিচারপতির শপথ

শীর্ষ আদালতে আসার আগে বিচারপতি আগরওয়াল গুজরাট হাইকোর্টের, বিচারপতি উপাধ্যায় দিল্লি হাইকোর্টের এবং বিচারপতি সিং তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ এক অনুষ্ঠানে এই তিন বিচারপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত। সুপ্রিম কোর্টের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে পুরো অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়াম এঁদের নাম সুপারিশ করেছিল। এরপর ৫ অক্টোবর আইন মন্ত্রকের মাধ্যমে সেই সুপারিশে ছাড়পত্র দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। শেষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু শীর্ষ আদালতের বিচারপতি হিসেবে তাঁদের নিয়োগে চূড়ান্ত সিলমোহর দেন। এই তিনজনের নিয়োগের পর সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি-সহ মোট বিচারপতির সংখ্যা বেড়ে হল ৩৭। শীর্ষ আদালতে মোট ৩৮ জন বিচারপতির পদ অনুমোদিত রয়েছে।

দেশের হাইকোর্টগুলির প্রবীণতম বিচারপতিদের তালিকায় এই তিনজন ছিলেন একেবারে ওপরের দিকে। সর্বভারতীয় স্তরে প্রবীণ বিচারপতিদের মধ্যে বিচারপতি আগরওয়াল চতুর্থ, বিচারপতি উপাধ্যায় পঞ্চম এবং বিচারপতি সিং ষষ্ঠ স্থানে ছিলেন।

বিচারপতি আগরওয়াল শপথ নেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টে বর্তমান মহিলা বিচারপতির সংখ্যা বেড়ে তিন হল। তিনি যোগ দিলেন বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি ভি মোহনার সঙ্গে। আগরওয়ালের ঠিক আগেই শীর্ষ আদালতে এসেছিলেন বিচারপতি মোহনা। গত ২ জুন তিনি শপথ নেন। অন্যদিকে, ২০২১ সালের আগস্টে সুপ্রিম কোর্টে যোগ দিয়েছিলেন বিচারপতি নাগরত্ন।

বিচারপতি সুনীতি আগরওয়াল

সুপ্রিম কোর্টে আসার আগে গুজরাট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন সুনীতা আগরওয়াল। তাঁর মূল বা পেরেন্ট হাইকোর্ট হল এলাহাবাদ। অবধ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক হওয়ার পর ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে তিনি আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেন। এলাহাবাদ হাইকোর্টে মূলত দেওয়ানি মামলা লড়তেন তিনি। ২০১১ সালের নভেম্বরে তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হন এবং ২০১৩ সালের আগস্টে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তাঁকে গুজরাট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি করা হয়।

বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায়

অন্যদিকে, বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ছিলেন দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। তাঁরও পেরেন্ট হাইকোর্ট এলাহাবাদ। ১৯৯১ সালে লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের ডিগ্রি পান তিনি। ওই বছরের মে মাসেই আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চে দেওয়ানি ও সাংবিধানিক মামলা নিয়ে প্র্যাকটিস করতেন তিনি।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের চিফ স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল হিসেবেও কাজ করেছেন। এরপর ২০১১ সালের নভেম্বরে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি হন এবং ২০১৩ সালের আগস্টে স্থায়ী পদ পান। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন।

অপরেষ কুমার সিং

শীর্ষ আদালতে আসার আগে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন অপরেশ কুমার সিং। তাঁর পেরেন্ট হাইকোর্ট ঝাড়খণ্ড। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (অনার্স) এবং এলএলবি করার পর ১৯৯০ সালে তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রথমে পাটনা হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করলেও পরে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে চলে যান। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে তিনি ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হন এবং ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। ঝাড়খণ্ড স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির এগজিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। পরে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হন এবং ২০২৩ সালের এপ্রিলে ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর তাঁকে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে বদলি করা হয়, যেখানে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।

সুপ্রিম কোর্টের পরিকাঠামো বৃদ্ধি

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের পরিকাঠামো বাড়ানো হয়েছে। দুটি নতুন এজলাস এবং দুটি রেজিস্ট্রার কোর্টরুম তৈরি হয়েছে। ঠিক তার পরেই এই তিন বিচারপতির নিয়োগ হল। নতুন তিন বিচারপতি এবার সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত রোস্টারে যোগ দেবেন। এর ফলে শীর্ষ আদালতে আর মাত্র একটি বিচারপতির পদ ফাঁকা রইল।