মাদ্রাজ আইআইটির ছাত্রীর আত্মহত্যা নিয়ে ক্রমেই উত্তাল হয়ে উঠেছে ছাত্র আন্দোলন। সোমবার মাদ্রাজ আইআইটির দুই ছাত্র ক্যাম্পাসের  ভিতর  ছাত্রীর আত্মহত্যা তদন্তরের দাবি জানিয়ে অনশন শুরু করেছেন। মঙ্গলবারও সেই অনশন অব্যাহত রয়েছে। অন্য দিকে, আইআইটি মাদ্রাজের তিন অধ্যাপককে  তদন্তকারীর দল সোমবার রাতের দিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে জানা গিয়েছে। ফতিমা লতিফ অত্মহত্যার আগে  মোবাইলে তিন অধ্যাপকের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। 

কোন পরিস্থিতিতে ফতিমা লতিফ আত্মহত্যা করেছিলেন, কে  বা কাদের জন্য তিনি আত্মহত্যা করছেলিনে, সেই দিকে নজর রেখেই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী ফতিমা লতিফের মৃতদেহ প্রথম দেখেন হস্টেলের অন্য এক ছাত্রী আলিমা সন্তোষ। ফতিমার বাড়ি থেকে ফোন আসে। জানানো হয়,  ফতিমা ফোন ধরছে, সে কী করছে একবার যেন দেখে। তখনই আলিমা ফতিমার ঘরের কাছে যায়।  

তদন্তকারী দল ফতিমার বাবাকে শনিবার জিজ্ঞাসাবাদ করে। শুধু তাই নয়, যে হস্টেলে ফতিমা লতিফ থাকতেন, সেখানকার কর্মী ও ছাত্রীদের সঙ্গেও তদন্তকারী দল কথা বলেন বলে জানা গিয়েছে। ফতিমা লতিফের বাবা  কয়েকদিন আগে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে ছাত্রীর বাবা জানান, আমার মেয়ে সব দিক থেকে এক নম্বরে ছিল। কিন্তু তাকে ইনস্টিটিউটে ক্রমাগত হয়রানি করা হয়েছে। কয়েকজন অধ্যাপক ক্রমাগত তাকে হয়রানি করে। যার জেরেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। 


মাদ্রাজ আইআইটিতে প্রায়শই পড়ুয়া আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।  ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচ জন আত্মহত্যা করেছেন।  চলতি বছরে সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখে এস শহল কোরমাথ নামের ওসেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক পড়ুয়া আত্মহ্যা করেন। তিনি কেরালার বাসিন্দা ছিলেন। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে এমটেকের এক পড়ুয়া আত্মহত্যা করেন। একজন অধ্যাপকও আত্মহত্যা করেন বলে জানা গিয়েছে। বেশিরভাগ আত্মহত্যার অবসাদের জেরে আত্মহত্যা করেন। আইআইটি কর্তৃপক্ষ  অবসাদের ভোগা পড়ুয়াদের জন্য বিনামূল্যে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করেছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি হস্টেলের সামনে কাউন্সিল বিভাগের নম্বর দেওয়া হয়েছে। তারপরেও কেন মাদ্রাজ আইআইটিতে এত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।