জেল নয়, ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি হোক মৃত্যুদণ্ড। লোকসভায় এমনই দাবি তুলল তৃণমূল। হায়দরাবাদ কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতেই সংসদে এ দিন এই দাবি তোলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তৃণমূলের আনা এই প্রস্তাব নিয়ে কিছু না বললেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ জানান, হায়দরাবাদ মতো জঘন্য ঘটনা আটকাতে প্রয়োজনে আরও কড়া আইন আনতে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় সরকার। এ নিয়ে সংসদে আলোচনা করতেও আপত্তি নেই মোদী সরকারের। 

এ দিন সংসদের অধিবেশন শুরু হতেই হায়দরাবাদ কাণ্ড নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে লোকসভা এবং রাজ্যসভা। বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে সংসদে এ নিয়ে আলোচনার দাবি জানানো হয়। নতুন আইনের পক্ষে সওয়াল করেন অনেক সাংসদ। 

এরই মধ্যে তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাংসদ সৌগত রায় বলেন, 'এই ঘটনার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে এবং গোটা দেশের মানুষের ক্ষোভের কথা মাথায় রেখে এমন আইন আনা হোক যাতে ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।' একই সঙ্গে তেলেঙ্গানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অসংবেদনশীল মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন সৌগত রায়। রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ও হায়দরাবাদের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে পুলিশের গড়িমসির সমালোচনায় সরব হন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে মহিলাদের সম্মানহানি বা নিরাপত্তাহীনতার ঘটনায় এলাকার বিচার না করে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে পুলিশকে। কিন্তু হায়দরাবাদের ক্ষেত্রেও সেই নির্দেশ মানেনি পুলিশ। এবার থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পেলে ততক্ষণাৎ অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের সাসপেন্ড করার দাবি জানান তৃণমূল সাংসদ। পাশাপাশি পুলিশের এই গড়িমসি রুখতে সব রাজ্যকে নির্দেশিকা পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও অনুরোধ করেন সুখেন্দুশেখর রায়। 

আরও পড়ুন- মেয়ের মতোই পুড়িয়ে মারা হোক ধর্ষকদের, দাবি হায়দরাবাদের নির্যাতিতার মায়ের

আরও পড়ুন- স্কুটারের চাকা পাংচার করে গণধর্ষণের ছক, হায়দরাবাদ কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য

 রাজ্যসভাতেও বিষয়টি নিয়ে সরব হন কংগ্রেস সাংসদ গুলাম নবি আজাদ। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ  আটকাতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। দল, ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর শাস্তির পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। 

বিরোধীদের দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করে প্রতিরক্ষমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ কার্যত স্বীকার করে নেন, হায়দরাবাদের মতো ঘটনা আটকাতে প্রয়োজনে আরও কড়া আইন আনতে হবে। নির্ভয়া কাণ্ডের পরে নতুন আইন প্রণয়ন করেও যে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে লাগাম টানা যায়নি, সেকথাও স্বীকার করে নিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। রাজনাথ সিংহ বলেন, 'এর থেকে বেশি অমানবিক কিছু হতে পারেনা। সব দলই মনে করছে যে অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত। এ বিষয়ে কোনও দ্বিমতই নেই। নির্ভয়া কাণ্ডের পর কড়া আইন এসেছে। ভাবা হয়েছিল এবার হয়তো এমন অপরাধে রাশ টানা যাবে। কিন্তু তার পরেও এমন জঘন্য ঘটনা ঘটছে। সংসদে আলোচনা নিয়ে সরকারের কোনও আপত্তি নেই। কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার জন্য যা যা করণীয়, সরকার সবকিছু করতে তৈরি। যদি আইন সংশোধন করতে হয়, তাতেও আপত্তি নেই সরকারের। এ বিষয়ে সবার পরামর্শ শুনতে রাজি সরকার। কিন্তু সংসদে আলোচনা হবে কি না, তা অধ্যক্ষই ঠিক করুন।'

হায়দরাবাদে তরুণী পশু চিকিৎসক যে নৃশংসতার শিকার হয়েছেন, তাতে গোটা দেশ ক্ষোভে ফুটছে। ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই যে সরকারকেও আরও কড়া আইন প্রণয়নের কথা ভাবতে হচ্ছে। অধ্যক্ষ ওম বিড়লাও জানিয়েছেন, প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা হতেই পারে। তিনিও জানিয়েছেন, এমন ঘৃণ্য অপরাধ সংসদের কাছেও প্রবল উদ্বেগের বিষয়।