আগাম ছক কষেই প্রথমে গণধর্ষণ, তার পরে খুন করা হয়েছে হায়দরাবাদের তরুণী পশু চিকিৎসককে। আর সেই উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাতকৃতভাবে তরুণীর স্কুটির টায়ার পাংচার করে দিয়েছিল অভিযুক্তরা। হায়দরাবাদে তরুণী পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মদ্যপান করতে করতেই এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র ছকে ফেলেছিল চার অভিযুক্ত। 

বৃহস্পতিবার তেলেঙ্গানায় ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের একটি কালভার্টের নীচে এক তরুণীর দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। পরে জানা যায় নিহত তরুণী একজন পশু চিকিৎসকক। তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে তদন্তে নেমে নিশ্চিত হয় পুলিশ। গণধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগে রঙ্গা রেড্ডি জেলার বাসিন্দা চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

সাইবারাবাদ পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ধৃত চারজনের নাম মহম্মদ আরিফ, জোল্লু শিবা, জোল্লু নবীন এবং চিন্তাকুন্তা চেন্নাকেশাভালু। এদের মধ্যে পচিশ বছর বয়সি মহম্মদ আরিফই মূল অভিযুক্ত বলে দাবি তদন্তকারীদের। 

আরও পড়ুন- মেয়ের মতোই পুড়িয়ে মারা হোক ধর্ষকদের, দাবি হায়দ্রাবাদের নির্যাতিতার মায়ের

আরও পড়ুন- হায়দরাবাদে গণধর্ষণকাণ্ডে গ্রেফতার ৪, সামসাবাদে ঘটনাস্থলের কাছেই উদ্ধার আরও এক মহিলার অগ্নিদগ্ধ দেহ

পুলিশের দাবি, বুধবার ওই তরুণী শামসবাদের টোল প্লাজা নিজের স্কুটি পার্ক করে একটি ক্যাব ধরে গাতিবউলির দিকে নিজের ক্লিনিকে যান। সেই সময় টোল প্লাজার কাছেই মদ্যপান করছিল চার অভিযুক্ত। তখনই তারা তরুণীকে দেখে নিশানা করে তারা। 

পুলিশের দাবি, তরুণী চলে যাওয়ার পরই নবীন নামে এক অভিযুক্ত গিয়ে তরুণীর স্কুটারের পিছনের চাকাটি পাংচার করে দেয়। রাত ৯.১৮ মিনিট নাগাদ টোল প্লাজায় ফেরেন ওই পশু চিকিৎসক। তিনি এসে দেখেন, তাঁর স্কুটারের পিছনের চাকা পাংচার হয়ে গিয়েছে। ফলে বিপদে পড়ে যান ওই তরুণী। 

ষড়যন্ত্র অনুযায়ী এর পরই শুনশান টোল প্লাজায় একাকী তরুণীকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যায় আরিফ। পাংচার হওয়া চাকা সারিয়ে দেওয়ার অছিলায় তরুণীর স্কুটার নিয়ে চলে যায় জোল্লু শিবা নামে আর এক অভিযুক্ত। কিছুক্ষণ বাদে সে ফিরে এসে জানায়, পাংচার সারানোর সমস্ত দোকানই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর পরেই ওই তরুণীকে নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। সাইবারাবাদের পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, অত্যাচার চালানোর সময় তরুণীর নাক, মুখ চেপে রেখেছিল অভিযুক্তরা। তার ফলেই মৃত্যু হয় ওই  পশু চিকিৎসকের। 

নির্যাতিতার মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে তাঁর দেহ ট্রাকে তুলে নেয় অভিযুক্তরা। এর পর তারা পেট্রোল কেনে। ট্রাকে করে তরুণীর দেহ এবং স্কুটার নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছাতনপল্লিতে চলে আসে তারা। এর পরে হায়দ্রাবাগ বেঙ্গালুরু জাতীয় সড়কের একটি কালভার্টের নীচে তরুণীর দেহতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। 

ওই অভিযুক্তদের উদ্দেশ্য যে ভাল নয় তা বুঝতে পেরেছিলেন ওই পশু চিকিৎসক। শিবা নামে অভিযুক্ত তাঁর স্কুটার সারানোর জন্য নিয়ে যাওয়ার পর নির্যাতিতা তাঁর বোনকে ফোন করে আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। দিদিকে সাহায্য করতে কিছুক্ষণের মধ্যে শামসবাদের টোলপ্লাজায়  পৌঁছন বোন। কিন্তু তার আগেই ওই তরুণীকে জোর করে নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল অভিযুক্তরা। দিদিকে ফোনেও পাননি নির্যাতিতার বোন।