সামাজিক লাজলজ্জার কথা মাথায় আসেনি তাঁদের। চোখের সামনে বিপদ ঘটতে দেখে একমুহূর্ত না ভেবে খুলে ফেলেছিলেন পরণের শাড়ি। তারপর সেই শাড়ির একপ্রান্ত হাতে ধরে আরেক প্রান্ত ছুঁড়ে দিয়েছিলেন জলে। তাতেই প্রাণ বাঁচল দুই যুবকের।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৬ অগাস্ট। তামিলনাড়ুর কোট্টারাই বাঁধ সংলগ্ন কোট্টারাই গ্রামে। ওইদিন পাশের এক গ্রাম থেকে জনা ১২ ছেলে কোট্টারাই গ্রামে এসেছিল ক্রিকেট খেলতে। খেলার পর সকলে কোট্টারাই বাঁধে স্নান করতে গিয়েছিল। গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে মারুডাইয়ারু নদীর জলের মাত্রা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। বাঁধের জলের সীমা ১৫ ফুট থেকে ২০ ফুট মতো বেড়ে গিয়েছিল।

ওই সময় ওই এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন গ্রামেরই তিন মহিলা সেন্থমিজ সেলভি (৩৮), মুথমাল (৩৪) এবং অনন্তাবল্লি (৩৪)। ওই যুবকরা তাঁদের জিজ্ঞেস করেছিল, বাঁধের জলে স্নান করা যাবে কি না। ওই মহিলারা জানিয়েছেন, জলের গভীরতা অনক বেড়ে গিয়েছে বলে তাঁরা সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু, এই কথা হতে হতেই চারজন যুবক পিছলে পড়ে গিয়েছিল বাঁধের জলে।

তৎক্ষণাত সেন্থমিজ, মুথমাল এবং অনন্তাবল্লি তিনজনেই তাঁদের পরণের শাড়ি খুলে এগিয়ে গিয়েছিলেন যুবকদের দিকে।  সেই শাড়ির প্রান্ত ধরেই পাড়ে উঠে আসতে পারে কার্তিক ও সেন্টিলভেলান নামে দুই যুবক। কিন্তু, সকলের সামনেই তলিয়ে যায় ১৭  বছর বয়সী পবিথ্রান এবং ২৫ বছরের রঞ্জিত। এরমধ্যে রঞ্জিত ডাক্তারি পড়া শেষ করে ট্রেনিং-এ ছিল। দমকলকর্মীরা এসে পর ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার পেরাম্বুলার জেলার সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছিল।

তবে ওই তিন মহিলা সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্চ প্রশংসা পাচ্ছেন। যেভাবে লাজ-লজ্জা ভুলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তাঁরা ওই দুই যুবকের প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তাতে তাঁদের বীরাঙ্গনার আখ্যা দিয়েছে নেটিজেনরা। কিন্তু সেন্থমিজ, মুথমাল এবং অনন্তাবল্লি ভুলতে পারছেন না, বাকি দুই যুবকের কথা। চোখের সামনেই তলিয়ে গেল ছেলেদুটো - এই আক্ষেপ তাঁদের যাচ্ছে না।