- Home
- India News
- Drunk Driving: মদ খেয়ে গাড়ি চালানো অপরাধ, কিন্তু মদ্যপানের মাত্রা কতটা পেরলে ফাইন দিতে হবে? জানুন
Drunk Driving: মদ খেয়ে গাড়ি চালানো অপরাধ, কিন্তু মদ্যপানের মাত্রা কতটা পেরলে ফাইন দিতে হবে? জানুন
সত্যি বলতে, ট্রাফিক পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জরিমানা গোনা কারও ভালো লাগে না। কারণ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জরিমানা কেবল মেজাজই খারাপ করে না, বরং পকেটেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।

সত্যি বলতে, ট্রাফিক পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জরিমানা গোনা কারও ভালো লাগে না। কারণ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জরিমানা কেবল মেজাজই খারাপ করে না, বরং পকেটেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। ভারতে সড়ক নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন অমান্যের জন্য ধার্যকৃত জরিমানা ও শাস্তির বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অপরাধের গুরুত্ব বা মাত্রার ওপর ভিত্তি করেই শাস্তির ধরন নির্ধারিত হয়, যার মধ্যে আর্থিক জরিমানা এবং/অথবা কারাদণ্ড অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর মতো বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ধরনের অপরাধ ও অন্যান্য আইন লঙ্ঘন রোধ করার লক্ষ্যে সরকার ‘মোটর ভেহিকেলস (সংশোধনী) আইন, ২০১৯’ (The Motor Vehicles (Amendment) Act of 2019) প্রবর্তন করেছে, যেখানে ভারতীয় চালকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের জরিমানা ও শাস্তির বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো চরম অপরাধ। কিন্তু ঠিক কতটুকু মদ্যপানের মাত্রা পেরলে শাস্তি পেতে পারেন, তা নিয়ে অনেকেরই স্বচ্ছ ধারণা নেই। ভারতে ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের ক্ষেত্রে ১০০ মিলি রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ৩০ মিলিগ্রামের বেশি হলেই মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ আনা যেতে পারে। দুর্ঘটনা মদ্যপ অবস্থায় ঘটালে শাস্তিও অনেক বেড়ে যায়। বাণিজ্যিক গাড়ির চালকদের ক্ষেত্রে এই সীমা আরও কঠোর। অনেক ক্ষেত্রে এক্ষেত্রে 'শূন্য সহনশীলতা' (zero tolerance) নীতি অনুসরণ করা হয়। নিয়ম লঙ্ঘনের শাস্তিস্বরূপ প্রথম অপরাধের জন্য ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সও বাতিল বা স্থগিত করা হতে পারে।
দ্বিতীয় বা পরবর্তী অপরাধের ক্ষেত্রে, অপরাধীকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স দীর্ঘমেয়াদে স্থগিত বা স্থায়ীভাবে বাতিল করার শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ফলে যদি অন্য কোনও ব্যক্তি আহত হন, তবে অপরাধীকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। আর যদি এর ফলে অন্য কোনও ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে, তবে অপরাধীকে দুই থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং সেই সঙ্গে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হতে পারে।
বিভিন্ন রাজ্যের আইনে মদ্যপানের বৈধ বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। গুজরাট, বিহার, নাগাল্যান্ড এবং মণিপুরের মতো রাজ্যগুলোতে অ্যালকোহল বা মদ্যপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হরিয়ানা, গোয়া এবং অন্যান্য রাজ্যে মদ্যপানের বৈধ বয়স ২৫ বছর। আবার অন্য রাজ্যগুলোতে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সি ব্যক্তিরা মদ্যপান করতে পারেন। এছাড়া, গাড়ি চালানোর সময় নাবালকদের রক্তে কোনও মাত্রায় অ্যালকোহল থাকাটাও বেআইনি।
যদি কোনও নাবালক এই অপরাধ করে, তবে তার অভিভাবক বা গাড়ির মালিককে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে, কারণ নাবালকের জন্য তারাই দায়ী। তাদের তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২৫,০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে। অপরাধে ব্যবহৃত গাড়িটির রেজিস্ট্রেশনও ১২ মাসের জন্য বাতিল করা হবে। যদি ওই নাবালকের আগে থেকেই ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকে, তবে তা স্থগিত করা হবে এবং ২৫ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত তাকে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না।