গৌরী বলেন, প্রত্যেকটি মানুষের স্মৃতিতে থাকে, শৈশবে দাদু-ঠাকুমাদের সঙ্গে কেমন দিন কাটিয়েছে। এই বাড়িতেও শিশুরা এমন পরিবেশেই বড় হয়ে উঠবে।

গণিকালয়ের একটি ছোট্ট ঘরে যৌনকর্মী সঙ্গমে রত। আর তার ঠিক পাশেই এক তিনমাসের শিশু কাঁদছে। এমনই এক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিলেন মুম্বইয়ের রূপান্তরকামী সমাজকর্মী গৌরী সাওয়ান্ত।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সেই যৌনকর্মীর সঙ্গে কথা বলতে তিনি গৌরীকেই অনুরোধ করেন শিশুর দায়িত্ব নিতে। অন্য কারও কাছে না গিয়ে, গৌরী ঠিক করেন নিজেই দায়িত্ব নেবেন শিশুটির। কিন্তু তখনই এই রূপান্তরকামী সমাজকর্মী ভাবেন, এক জন শিশুই নয়। এমন কত যৌনকর্মীর সন্তান রয়েছে, যারা শৈশব থেকেই সমাজের বঞ্চনার শিকার হয়। সেদিনই ঠিক করেন নিজেই কিছু করবেন ওদের জন্য।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। মুম্বইয়ের ৩৭ বছর বয়সি গৌরি তাই এখন নিজের জমিতেই একটি বাড়ি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্য কারও থেকে সাহায্য না নিয়ে নিজের জমানো টাকা দিয়ে এই বাড়ি বানাচ্ছেন তিনি যৌনকর্মীদের সন্তানদের জন্য। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যের কাছে এমনই জানান তিনি।

গৌরী বলেন, প্রত্যেকটি মানুষের স্মৃতিতে থাকে, শৈশবে দাদু-ঠাকুমাদের সঙ্গে কেমন দিন কাটিয়েছে। এই বাড়িতেও শিশুরা এমন পরিবেশেই বড় হয়ে উঠবে।

গৌরীর এমন উদ্যোগে মুগ্ধ মুম্বইয়ের মানুষ। রাজ্যের নির্বাচনী কর্মকর্তার অফিস গৌরীকে এই কাজের জন্য স্টেট অ্যাম্বাসাডর পদে নিয়োগ করা হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে দেশের এক মাত্র রূপান্তরকামী নির্বাচনী অ্যাম্বাসাডর হিসেবে যোগ দিতে পেরে গৌরী খুশি।

গৌরী জানিয়েছেন, দেশে এমন বহু মহিলা রয়েছেন যাঁরা ভোট দেওয়া কতটা জরুরি সেই বিষয়ে অবহিতই নন। বেশিরভাগ এলাকায় ভোটের দিনে ছুটির আবহাওয়া থাকে। তাই প্রত্যেক স্বামী বাড়িতে থাকেন। স্বামীর জন্য বাহারি রান্না করতে গিয়ে মহিলারা বাড়িতেই থেকে যান। ভোট দিতে যান না।

এমন মহিলাদের কাছে পৌঁছে যাবেন গৌরী। তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাবেন ভোট দেওয়ার অধিকার কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে গিয়ে যুদ্ধ করতে না পারলেও, বুথে গিয়ে ভোট দেওয়া জরুরি।

প্রসঙ্গত, পুণের এক পরিবারে জন্ম গৌরী সাওয়ান্তের। তাঁর নিজস্ব একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রয়েছে। ২০০১ সালে মা-এর মৃত্যুর পরে একটি শিশুকন্যা দত্তক নেন গৌরী। গৌরীর মা পেশায় একজন যৌনকর্মী ছিলেন। এইচআইভি পজিটিভ-এ মৃত্যু হয়েছিল তাঁর।