বৃহস্পতিবার, ১০ শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ভারত বনধে অংশ নিচ্ছেন দেশের প্রায়  ২৫ কোটি শ্রমিক-কর্মচারী। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি পরিবহন ও ব্যাঙ্ক ইউনিয়নও এদিনের ধর্মঘটে অংশ নেওয়ায় সারা দেশেই ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যহত হতে পারে। রাস্তায় গণপরিবহনও বিশেষ নাও মিলতে পারে, বলে মনে করা হচ্ছে।

কারা ডেকেছে বনধ?

ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস বা আইএনটিইউসি, অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস বা এআইটিইউসি, হিন্দ মজদুর সভা এইচএমএস, সেন্টার অব ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস বা সিআইটিইউ-সহ দেশের অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নই এদিনের বনধে অংশ নিচ্ছে। একমাত্র বিজেপিপন্থী শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘ বা বিএমএস এই ধর্মঘটে অংশ নেবে না।

আরও পড়ুন - বেড়াতে গেলেই মিলবে করোনা ভ্যাকসিন, অবাক করা পর্যটন চালু করল মুম্বইয়ের সংস্থা

আরও পড়ুন - গোটা ভারতের টিকাকরণে লাগবে ৩ বছর, সুস্বাস্থ্যের অধিকারীদের কপাল সবথেকে খারাপ

আরও পড়ুন - একের পর এক মৃতদেহ ধর্ষণ, বাংলাদেশে সিরিয়াল কিলার ধরতে গিয়ে সামনে এল বিকৃত অপরাধ

কীসের দাবিতে ধর্মঘট?

আয়করের আওতার বাইরে থাকা পরিবারগুলিকে মাসে মাসে ৭,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা এবং প্রতিটি অভাবী মানুষকে প্রতি মাসে নিখরচায় ১০ কেজি করে চাল দিতে হবে।

মনরেগা প্রকল্পের সম্প্রসারণ, প্রতি বছরে ১০০ দিনের বদলে ২০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা, মজুরি বৃদ্ধি।

সমস্ত 'কৃষক বিরোধী' আইন এবং 'শ্রমিক বিরোধী' আইন প্রত্যাহার। সরকারি খাতের বেসরকারীকরণ বন্ধ।

সকলের জন্য পেনশন, জাতীয় পেনশন ব্যবস্থা বাতিল করা এবং পূর্ববর্তী পেনশন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।

কোন কোন পরিষেবাগুলি ব্যহত হতে পারে?

শিল্প ক্ষেত্র, ব্যাঙ্ক, পরিবহন পরিষেবা ব্যহত হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কৃষক, প্রকল্প কর্মী, গৃহকর্মী, নির্মাণ শ্রমিক, বিড়ি শ্রমিক, হকার, ছোট বিক্রেতা, কৃষি শ্রমিক, অটো ও ট্যাক্সি চালক, রেল-কর্মী, এমনকী প্রতিরক্ষা কর্মীরাও এদিনের ধর্মঘটে অংশ নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্যাঙ্ক কি পুরো বন্ধ থাকবে?

সরকারিভাবে ব্যাঙ্ক বন্ধ না হলেও, এদিনের ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছে অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন বা এআইবিইএ, অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এআইআইবিওএ এবং ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া  বা বিএফআই। কাজেই দেশের প্রায় প্রতিটি রাজ্যেই এদিন কার্যত ব্যাঙ্কিং পরিষেবা বন্ধ থাকবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।