১৯৭১ সালের আগের কোনও তথ্য তিনি দিতে পারেননি। প্রমাণ করতে পারেননি তাঁর ভারতের ত্রিপুরাতেই জন্ম হয়েছিল। আর তাই স্বামী বা ছেলের নাম অসমের চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিকপঞ্জীতে থাকলেও তাঁর নাম নেই। ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য তিনি মানসিক প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছিলেন। সেই সময় একপ্রকার ভগবানের দূত হয়ে হাজির হলেন ত্রিপুরার এক স্কুলের হেড মাস্টার। তিনি জামিন করিয়ে ওই মহিলাকে মুক্ত করে তবেই তিনি ফিরলেন ত্রিপুরাতে।  ত্রিপুরার হেড মাস্টারের এই  মানবিক মুখ এখন রাজ্যের  প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে। 

ত্রিপুরার চারিলাম উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিলীপ দাস। অসমের ফরেন ট্রাইবুনাল থেকে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়।  চারিলাম উচ্চমাধ্যমিক স্কুলেই গীতা রানি সরকার পড়তেন, সেই বিষয়ে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে বলা হয়।  ৬১ বছরের গীতা রানি দক্ষিণ চারিলাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি  চারিলাম উচ্চমাধ্যমিক স্কুলেই পড়াশোনা করেন।  সেই স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক দিলীপ দাস। 

প্রধান শিক্ষক অনায়াসে ইমেল পাঠিয়ে গীতা রানির স্কুলে পড়ার যাবতীয় তথ্য পেশ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তাঁর পাঠানো তথ্যের ওপর নির্ভর করছে তিনি ভারতীয় কি ভারতীয় নয়। তাই নিজের ভাগের ছুটি থেকে ১০  দিন ছুটি নিয়ে অসমে যান। অসমের নলবাড়িতে তিনি ১০ দিন থাকেন। ট্রাইবুনাল থেকে গীতা রানির মুক্তি নিশ্চিত করার পরেই ত্রিপুরায় ফিরে আসেন। এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর উচ্ছসিত ত্রিপুরার শিক্ষা পর্ষদ। ত্রিপুরার শিক্ষা পর্ষদ জানিয়েছে, অফিসিয়াল কাজে ১০ দিন তিনি অসম গিয়েছেন। এই কারণ দেখিয়ে দিলীপ দাস যেন ছুটিটাকে অফিসিয়াল কাজে অসম যাওয়ায় পরিবর্তিত করে দেন।