গত ২১ ডিসেম্বর ১৮ বছরের ছেলেটি অংশ নিয়েছিল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলনে। আর তার ১০ দিনের মাথাতেই মিলেছিল, সাতে পাঁচে না থাকা ছেলেটির লাশ। শুক্রবার বিহারের পাটনার এই ঘটনায় পুলিশ মোট ৬ জন সন্দেহবাজনকে গ্রেফতার করল। যার মধ্যে ২জন এক চরমপন্থী হিন্দু সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।

খুন হওয়া যুবকের নাম আমির হাঞ্জলা। তিনি পাটনায় এক ব্যাগ সেলাই-এর কারখানায় কাজ করতেন। কিন্তু গত ২১ ডিসেম্বর তারিখে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে আরজেডি বিহারে বন্ধ ডেকেছিল। সেই বন্ধের জেরে ওই দিন কারখান বন্ধ ছিল। তাই তিনি আরজেডি-র প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। দুপুর পৌনে বারোটায় বাড়ির লোকের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তারপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ ছিল। ঘটনার ১০ দিন পর ফুলওয়ারি শরিফ ব্লক অফিসের কাছ থেকে আমিরের পচা গলা দেহ উদ্ধার হয়েছিল।

এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শুক্রবার পাটনা পুলিশ হিন্দু পুত্র সংগঠনের সদস্য ২৩ বছরের নাগেশ সম্রাট এবং হিন্দু সমাজ সংগঠনের সদস্য ২১ বছরের বিকাশ কুমার-কে ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও দীপক মাহাতো, ছোটু মাহাতো, ও সনোজ মাহাতো নামে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ২১ তারিখ প্রতিবাদীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করা শুরু করতেই প্রতিবাদস্থল ছেড়ে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছিল আমির। কিন্তু সঙ্গত গলি এলাকায় তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায় আততায়ীরা। এরপর ইঁট ও অন্যান্য ভোঁটা অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথা থেতলে দেওয়া হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। সেইসঙ্গে দেহে   দুটি গভীর ক্ষত ছিল।  

পুলিশের মতে আটক ৬ জনের মধ্যে কুমার ও সম্রাটই ছিল মূল কালপ্রিট। তারা নিয়মিত সোশ্য়াল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে সাম্প্রজায়িক উত্তেজনা তৈরি করত। ঘটনার দিনও তারা এই রকম বেশ কিছু ভিডিও পোস্ট করেছিল। এমনকী তাতে পুলিশ বেছে বেছে হিন্দুদের উপর হামলা করছে এমন অভিযোগও করেছিল।