বুলবুল তার তাণ্ডবলীলা চালিয়ে চলে গেছে বেশ কিছুদিন হল। কিন্তু পাঁচদিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রয়েছেন রয়েছেন বাংলাদেশের বরিশাল, ফিরোজপুর ও বাগের হাটের প্রায় আড়াই লক্ষ পরিবার। বাংলাদেশের পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, এই তিনটি জেলায় বিদ্যুতের লাইন মেরামতের জন্য কয়েক হাজার কর্মী কাজ করছেন। তারপরেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। 

বাংলাদেশের পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তরফে প্রথমে বলা হয়েছিল, উপকূলীয় জেলায় ৯৫ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুতের লাইন বুলবুলের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ফিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালি ও বরিশালের প্রায় ২৫ লক্ষ পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। তবে বেশ কিছু অঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হলেও এখনও ২.৫ লক্ষ গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এখনও বেশ কিছু হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মত জরুরি সেবাকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎপরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি বলে জানা গিয়েছে। কেউ কেউ সৌর বিদ্যুতের সাহায্য নিলেও, যাঁদের সেই ব্যবস্থা নেই, তাঁদের ভরসা হ্যারিকেন। 

বুলবুলের প্রভাবে  বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলায় ২৫ হাজার হেক্টর আমন ধান , ১,২০০ হেক্টর জমির সবজি ও র৫০০ হেক্টর জমির সরিষা ও ১২০ হেক্টর জমির পান নষ্ট হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ পরিচালক অরিন্দম বিশ্বাস। বাংলাদেশের লক্ষীপুর জেলায় বুলবুলের প্রভাবে মেঘনা নদীর তীরে ২৫টি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। রবিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ বুলবুল বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও রাত আড়াইটের পর থেকে ঝোড়ো হাওয়া যায়।