কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক মঙ্গলবার জানিয়েছে সরকারের মূল লক্ষ্যই হল করোনাভাইরাসের ইতিবাচক হার পাঁচ শতাংশ কমিয়ে আনা। যতগুলি পরীক্ষা করা হয়েছে তারমধ্যে যতজন আক্রান্ত পাওয়া গেছে তার গড় হিসেবই পজেটিভিটি রেট হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। 

সংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে বলা হয়েছে যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি সেইসব এলাকায় পজেটিভিটি রেটকে প্রথমে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা। পরবর্তী ধাপে সেই হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যেই কাজ করা হবে। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে বর্তমান ভারতে সামগ্রিক ইতিবাচক হার ৮.০৭ শতাংশ। ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত এলাকা রয়েছে যেখানে ইতিবাচক হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম। তারমধ্যে রয়েছে রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ। 

তবে মহারাষ্ট্র, দিল্লি, তামিলনাড়ুতে পজেটিভিটি রেট অনেকটাই বেশ। করোনা সংক্রমণের কারণে এই সব রাজ্যগুলি বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ১১ লক্ষ ছাড়িয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি ভারত অনেক বড় দেশ। বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশও এটি। আর সেখানে দাঁড়িয়ে সংক্রমণ রুখতে রীতিমত ভালো প্রচেষ্টা চালান হচ্ছে বলেই দাবি করা হয়েছে। 


কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে প্রতি দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে আজ পর্যন্ত এই দেশে ৮৩৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। যা অন্যান্যবড়  দেশের তুলনায় অনেকটাই ভালো। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ভারতের তুলনায় ১২ থেকে ১৩ গুণ বেশি। 


স্বাস্থ্য মন্ত্রক দাবি করেছে এই দেশে মৃত্যুর হারও অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই কম। ভারতের প্রতি মিলিয়ন মানুষের মধ্যে মৃত্যুর হার যেখানে ২০.৮ শতাংশ সেখানে বিশ্বেব্যাপী গড় দাঁড়িয়ে রয়েছে ৭৭ শতাংশে। ব্রিটেনে মৃত্যুর হার ৬৬৭, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৪২১ আর ব্রাজিলে ৩৭১। ভারতের থেকে এই হার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২১ আর ব্রিটেনে ৩৩ গুণ বেশি। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে এদিন আরও জানান হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ডের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে। বিশ্বল স্বাস্থ্য সংস্থা যেখানে ১০ লক্ষ মানুষের গড়ে ১৪০টি পরীক্ষা করার কথা বলেছে সেখানে ভারতে দৈনিক ১৮০টি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যার তুলনায় পজেটিভ রেটের দিকেই বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।