প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ  করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শিরোমণি অকালি দলের লোকসভার সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদল। বৃহস্পতিবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি তাঁর পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।কৃষি বিলের প্রতিবাদ জানিয়েই তিনি প্রতিবাদ করেছেন। অথচ লোকসভায় যখন কৃষি বিল পাশ হয়েছিল তখন তিনি ও তাঁর দল পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় কৃষক অসন্তোষ ক্রমশই বাড়ছে। আর এই সময় কৃষকদের মন পেতেই মোদির মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেন হরসিমরত কৌর। 


দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে রয়েছে শিরোমণি অকালি দল। হরসিমরত কৌর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দলের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন। প্রথম দফার মোদী সরকারেও তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। অন্যদিকে মোদী সরকার যে ফার্ম বিল আনতে চলেছে তাতেও অকালি দল সাংসদদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আর্জি জানান হয়েছে। আগেই পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদল জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সরকার যে  ফার্ম বিল আনতে চলেছে তা নিয়ে এনডিএর সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা করেনি। যেসব সাংসদরা দলের বিরুদ্ধেচরণ করবে তাঁদের গ্রামে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কারণ এই বিলের প্রতিবাদে ক্রমশই কৃষক অসন্তোষ বাড়ছে পঞ্জাব আর হরিয়ানায়। আর ভোটের কথা মাথায় রেখেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বন্ধুত্বে চিড় ধরতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। 

গত সোমবার মোদী সরকার কৃষকদের উৎপাদন বিক্রি আর বাণিজ্য বিল, কৃষকদের চুক্তি মূল্য আশ্বাস ও খামার পরিষেবা বিল সম্পর্কিত চুক্তি এবং দ্যা এসেন্সিয়াল পণ্য সংশোধন বিল পেশ করে। এই বিলগুলি অতীতেও অ্যামেডমেন্ট বিল হিসেবে পেশ করা হয়েছিল। এবার সরকারের উদ্দেশ্য ছিল এই বিলগুলিকে পাকাপাকি ভাবে আইনত মান্যতা দেওয়া।  সরকারের যুক্তি এই বিলগুলিতে উপকৃত হবেন কৃষকরা। উল্টোদিকে কৃষকরা ক্ষতির আশঙ্কা করছে। কৃষকদের দাবি এই বিল পাশ হলে তাদের কর্পোরেটদেশ করুণায় বেঁচে থাকতে হবে। আর এই বিলের প্রতিবাদে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভে উত্তাল হচ্ছে হরিয়ানা, পঞ্জাব, রাজস্থান তেলাঙ্গনার বিস্তীর্ণ এলাকা।