বাঁচার লড়াই চলেছিল প্রায় চল্লিশ ঘন্টা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে ইতি টানল উন্নাও-এর ২৩ বছরের নির্যাতিতা। বৃহস্পতিবার সিন্দুপুর গ্রামের বাইরেই এক মাঠে নিয়ে গিয়ে প্রথমে তাঁকে বেধারক মারধর করে অভিযুক্তরা। তারপর বারংবার ছুরি চালিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয় তাঁর দেহ। সবশেষে পেট্রল ঢেলে জালিয়ে দেওয়া হয় তাঁর দেহ। এরপর তাঁকে ওই অবস্থাতেই ফেলে চলে যায় অভিযুক্তরা।

নির্যাতিতা তরুণীকে প্রথমে ভর্তি করা হয়েছিল উন্নাওয়ের জেলা হাসপাতালে। সেখান থেকে আনা হয় লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালে। উন্নাও, লখনউ, কানপুর ঘুরে শেষপর্যন্ত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে শেষপর্যন্ত তাঁকে চিকিৎসার জন্য আনা হয় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা  ৯০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ এই রোগীর পক্ষে অত্যন্ত সংকটপূর্ণ বলেই হাসপাতালের তরফে মেডিক্যাল বুলেটিনে জানান হয়।

৯০ শতাংশ শরীর পুড়ে যেতেই মৃত্যু, উন্নাও নির্যাতিতা নিয়ে মত ডাক্তারদের

এর আগে জানা গিয়েছিল, ৯০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ হলেও জ্ঞান রয়েছে ওই তরুণীর। তাঁর ব্লাড প্রেশার এবং পালস রেটও স্বাভাবিক বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল যখন তাঁকে আনা হয় তার তুলনায় অবস্থার সামান্য উন্নতি হয় বলেই জানা যায়। তবে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানান চিকিৎসক নেগি। 

রামমন্দির তৈরি হচ্ছে অথচ সীতা-র অগ্নিপরীক্ষা চলছেই, উত্তাল লোকসভা

বৃহস্পতিবার বিকেলে লখনউতে ২৪ কিলোমিটার গ্রিণ করিডর করে বিমানবন্দের নিয়ে আসা হয় নির্যাতিতাকে। উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে গত মার্চে ৫ জন মিলে ধর্ষণ করে এক তরুণীকে। ধর্ষিতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করে। বাকি দুজন এখনও ফেরার। জামিন পেয়ে বেরিয়ে দুই অভিযুক্ত বন্দুদের নিয়ে ফের ধর্ষিতার গ্রামে যায়। গ্রামের বাইরে একটি ধানখেতে নিয়ে গিয়ে তাঁর গাঁয়ে পেট্রল ঢেলে আগুল ধরিয়ে দেওয়া হয়। 

শুক্রবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ওই তরুণী।