অভিযোগ ছিল, উন্নাওকাণ্ডে নিগৃহীতার বাবাকে খুন করিয়েছিলেন ধর্ষণে অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিংই। এদিন দিল্লির একটি আদালত বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত ওই  নেতাকে  ধর্ষিতার বাবাকে অনিচ্ছাকৃত খুনের দায়ে দোষী সাব্য়স্ত করল। 

গত সপ্তাহে দিল্লির  এই আদালত ওই মামলার রায়দান পিছিয়ে দিয়েছিল।এরপর এক সপ্তাহের মধ্য়ে ধর্ষিতার বাবাকে অনিচ্ছাকৃত খুনের দায়ে অভিযোগ করল আদালত। প্রসঙ্গত,  ২০১৮-র ৯ এপ্রিলে জেল হেপাজতে মৃত্য়ু হয়েছিল ধর্ষিতার বাবার। রায়দানের সময়ে এদিন জেলা আদালতের বিচারক বলেন, নিগৃহীতার মাকে খুন করার কোনও ইচ্ছা ছিল না সেঙ্গারের। এদিন সেঙ্গারের সঙ্গে আরও ছ-জনকে দণ্ডিত করে আদালত। কুলদীপ সেঙ্গার অবশ্য় এখন জেলেই রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পর দলের প্রভাবশালী বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করে বিজেপি। গত ডিসেম্বরে সেঙ্গারের সাজা ঘোষণা করে আদালত। প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যায় সেঙ্গারের সঙ্গী শশী সিং।

২০১৮-র ৩ এপ্রিলে নিগৃহীতার বাবা ও তাঁর একসঙ্গী তাঁদের গ্রাম ফিরছিলেন।  ওই সময়ে, কুলদীপের শাগরেদ মাক্ষী গ্রামের শশীপ্রতাপ সিংয়ের সঙ্গে তাঁদের কথা কাটাকাটি হয়। তারপর শশীপ্রতাপ সিং দুজনকে বেধড়ক মারে বলে অভিযোগ। নিগৃহীতার বাবাকে  থানায় নিয়ে যায় শশী। একটি এফআইআর রুজু করা হয়। পরে পুলিশ চার্জশিটে জানায়, ওই সময়ে কুলদীপ সিং সর্বক্ষণ যোগাযোগ রেখেছিল মাক্ষী থানার ওসি ও জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে। পরে লক্ষৌ থেকে ওই মামলা দিল্লি আদালতে স্থানান্তরিত করা হয়।  এর ক-দিনের মধ্য়ে জেল হেপাজতেই মৃত্য়ু হয় নিগৃহীতার বাবার। দেশজুড়ে তখন অভিযোগ ওঠে, নিগৃহীতার মুখ বন্ধ করতেই তার বাবাকে এভাবে মারা হল।

এদিকে এই ঘটনার  পর, খোদ নিগৃহীতাকে ট্রাক চাপা দিয়ে মারারও অভিযোগ ওঠে কুলদীপের বিরুদ্ধে। ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান নিগৃহীতার পরিবারের বেশ কয়েকজন।