গোটা শরীরটাই পুড়ে  গিয়েছে। ফলে দাহ করার আর প্রয়োজন নেই। উন্নাওয়ের নির্যাতিতাকে তাই সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিল তাঁর পরিবার। একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদমাধ্যমকে এমনই জানিয়েছেন নির্যাতিতার ভাই। 

গত বৃহস্পতিবার উন্নাওয়ের ওই নির্যাতিতার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় পাঁচ ব্যক্তি। তাদের মধ্যে দু' জন ওই নির্যাতিতাকে গত বছর ধর্ষণ করেছিল বলে অভিযোগ। জামিনে বাইরে ছিল তারা। আদালতে যাওয়ার সময় নির্যাতিতার গায়ে আগুন ধরানো হয় বলে অভিযোগ। চিকিৎসার জন্য তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে আসা হলেও প্রায় দু' দিন লড়াই করার পর শুক্রবার গভীর রাতে মৃত্যু হয় তাঁর। নির্যাতিতার শরীরের নব্বই শতাংশই আগুনে পুড়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা।

উন্নাওয়ের নির্যাতিতার বাবাও দাবি করেছেন, তাঁর মেয়ের মৃত্যুর পিছনে যে অভিযুক্তরা রয়েছে, তাদেরকেও পুড়িয়ে মারা হোক। নয়তো হায়দরাবাদের মতো এনকাউন্টার করে ওই অভিযুক্তদেরও একই পরিণতি করা হোক। নির্যাতিতার ভাইও একই দাবি জানান। তিনি জানান, জীবিত অবস্থায় অভিযুক্তদের ফাঁসি দেখে যেতে চেয়েছিলেন তাঁর বোন। 

উন্নাওয়ের এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই যোগী আদিত্যনাথ সরকারের উপরে চাপ বাড়িয়েছে বিরোধীরা। এ দিনই কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গাঁধী নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। টুইটারে তিনি বলেন, 'উন্নাওয়ের নির্যাতিতাকে ন্যায় বিচার দিতে না পারাটা আমাদের সবার ব্যর্থতা। সামাজিকভাবে আমরা সবাই এর জন্য দায়ী। কিন্তু উত্তর প্রদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক কী করম, এই ঘটনাতেই তা স্পষ্ট। 

এ দিকে উন্নাওয়ের নির্যাতিতার মৃত্যুর প্রতিবাদে এ দিনই ধর্নায় বসেছেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। তিনিও রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকেই নির্যাতিতার এই পরিণতির জন্য দায়ী করেছেন। 

উন্নাওয়ের নির্যাতিতার মৃত্যুর ঘটনায় বিবৃতি জারি করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও। নির্যাতিতার মৃত্যুকে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচার করে অভিযুক্তদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।