মদ্যপ বাবা। রোজ রাতে মদ খেয়ে অশান্তি করে। দিনের পর দিন বাবার এই অত্যাচার যেন  আর সহ্য হচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে  মেয়ে বার বার অনুরোধ করে মদ থেকে দূরে থাকতে। কিন্তু বাবার যে নেশা। সে কেন মেয়ের কথা শুনবে। কিন্তু রোজ রোজ মেয়ের এই অনুরোধ শুনতেও ভালো লাগছিল না।  তাই সহ্য করতে মেয়েকে গুলি করে মারল বাবা। উত্তরপ্রদেশের সম্বলে এই ঘটনাই ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ  ইতিমধ্যে  ওই হত্যাকারী বাবাকে গ্রেফতার করেছে। জেরার মুখে বাবা নিজের মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গিয়েছে। 

জানা যায়, উত্তরপ্রদেশের বান্দারাই গ্রামের বাসিন্দা নিম সিং। ১৫ বছর আগে তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করে। তারপর থেকে নিম সিং মদের প্রতি আসক্ত হতে শুরু করেন। পুলিশের কাছে নিম সিং জানিয়েছে, তাঁর মদের প্রতি এই আসক্তি মোটেই পছন্দ ছিল না মেয়ের। বার বার তাঁকে এগুলো বন্ধ করতে বলেন। সেদিনও  মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরলে মেয়ে রাগারাগি করে। সেই সময়  রাগের মাথায় মেয়েকে গুলি করে দেন বলে জানা গিয়েছে। 

প্রতিবেশীরা গুলির শব্দ শুনে নিম সিংয়ের বাড়িতে চলে আসেন।  গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিম সিংয়ের মেয়েকে শুয়ে থাকতে দেখে, যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। চিকিৎসকদের তরফে জানানো হয়, রাস্তায় আসার সময়ই তার মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশীরা গুলি চালনার খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিম সিংকে গ্রেপ্তার করে। মেয়েটির মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মদের প্রতি আসক্তির জন্য নিম সিং তাঁর চাষের জমি বিক্রি করে দিয়েছে। মেয়ের পাশাপাশি বড় ছেলে গৌরভ বার বার বাবাকে মদ থেকে দূরে থাকার জন্য অনুরোধ করত।  দুই বছর আগে স্ত্রীকে নিয়ে গৌরব দিল্লিতে চলে যায়। ছোট ছেলে ও মেয়ে বাবার সঙ্গে থাকত বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার সময় গৌরব বাড়িতে ছিল না বলে জানা গিয়েছে। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, নিম সিংকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।