করোনা আক্রান্তের তালিকায় এখনও শীর্ষ রয়েছে মহারাষ্ট্র। রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৭৯৯ জনের। কিন্তু কেন্দ্রয়কে এখনও পর্যন্ত রীতিমত চিন্তায় ফেলে দিয়েছে গুজরাত ও পশ্চমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় সরকারের হিসেব অনুযায়ী এই রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার অনেকটাই বেশি। 

প্রথম দিকে গুজরাতে দুই এক জন আক্রান্তের হদিশ পাওয়া গেলেও মাঝে সেই সংখ্যাটা ছিল অনেকটাই কম। কিন্তু দ্বিতীয় দফার লকডাইনের মাঝামাঝি সময় থেকেই গুজরাতে লাফিয়ে লাফিলে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমান হিসেব অনুযায়ী গুজরাত দিল্লিকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। রবিবার কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গুজরাতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭হাজার ৭৯৬। মৃত্যু হয়েছে ৪৭২ জনের। একই পরিস্থিতি বাংলারও। এই রাজ্যেও প্রথম দিকে করোনা আক্রান্তের ঘটনা তেমন ঘটেনি। কিন্তু বর্তমানে ক্রমশই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭৮৬। ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ১৭১ জনের। লকডাউন চলাকালীন এই দুই রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে বলেই সূত্রের খবর। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি?


গুজরাতে প্রথম করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে। তারপর থেকে ই বিমানবন্দরে বাছাই পর্ব শুরু করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। তারপরেও থামান যায়নি সংক্রমণ। আমেদাবাদ ও সুরাত-এই দুটি জেলাতেই সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে। বর্তমান দুইটি জেলাই সম্পূর্ণরূপে লকডাউন করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সমস্ত দোকানপাট। যান চলাচলের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শুধুমাত্র দুধ আর ওষুধের সরবরাহের ওপর কোনও রকম রাশ টানা হয়নি। গুজরাতে নমুনা পরীক্ষার দেরিকেই দায়ি করছেন এক সরকারি আধিকারিক। তাঁর মতে এপ্রিলের শেষে দিল্লিতে যেখানে প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তামিলনাড়ুতে নমুনা পরীক্ষার হার ৯৩০। সেখানে গুজরাতে প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে মাত্র ৭২১ জনের। পাশাপাশি তাবলিগি জামাত যোগের প্রসঙ্গেও টেনে এনেছে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তারা। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ অনেক আক্রান্তই ঠিক সময় চিকিৎসা করাতে আসছেন না। সময় পেরিয়ে যাওয়ার অনেকটা পরেই হাসপাতালে আসছেন আক্রান্তরা। 


প্রায় একই ছবি এই রাজ্যে। এই রাজ্যে প্রথম দিকে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে একাধিকবার বিবাদে জড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের অভিযোগ লকডাউনের সমস্ত নিয়ম মানা হয়নি এই রাজ্যে। একাধিক জায়গার ছবিতে দেখা গেছে লকডাউন অমান্য করেই ধর্মীয় সমাবেশ হচ্ছে অথবা স্থানীয়রা ভিড় করেছে বাজারে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল আসে এই রাজ্যে। তখন দেখা যায় এই রাজ্যেই প্রথম তৈরি হয়েছে ডেথ অডিট কমিটি। আর যাকে হাতিয়ার করে বিরোধীরা বলতে শুরু করে মৃত্যুর সংখ্যা চাপা দিতেই এই এই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন এই কমিটি সম্পর্কে তাঁর কিছুই জানার নেই। কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইসিএমআরও। কিন্তু বিরোধীদের দাবি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল আসার পরই এই  মৃতের সংখ্যা বড়িয়ে দিয়ে সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা করছে রাজ্য প্রশাসন। পাশাপাশি বাড়ান হয়েছে নমুনা পরীক্ষাও। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছেন পর্যাপ্ত পরিমাণে কিট না থাকার কারণেই পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে নাইসেড। তবে তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম থেকেই লকডাউন অনেকটাই কঠোর করা হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়।  

সবমিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রীতিমত মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও গুজরাত। অন্য একটি বিজেপি শাসিত রাজ্য মধ্য প্রদেশেও মৃতের হার অনেকটাই বেশি। রবিবার কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্যে আক্রান্তের সংথ্যা ৩৩৭৩। আর মৃত্যু হয়েছে ২১৫ জনের। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে দাড়িয়েও ইন্দোরসহ বেশ কয়েকটি লাল জোনে আক্রান্তের সংখ্যায় রাশ টানতে সক্ষম হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে মহারাষ্ট্রকে নিয়েও এখনও চিন্তিত কেন্দ্রীয় সরকার। করোনা সংক্রমণ রুখতে একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি উদ্ধব ঠাকরে প্রশাসন। রবিবারে গোটা দেশেই আক্রান্তের সংখ্যা ৬২, ৯৯৩। এখনও পর্যন্ত ২১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।