ভয়ঙ্কর ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক নিথর দেহ। সোমবার সন্ধ্যে পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মোট পাঁচটি দেহ উদ্ধার করেছে। যার মধ্যে তিনটি উদ্ধার হয়েছে ১.৭ কিলোমিটার লম্বা তপোবন টানেল থেকে। এই টানেলে ২৫ জন শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন। এপর্যন্ত সবমিলিয়ে ৫৬ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক মানুষ। তপোবন ট্যানেলের ১৪০ মিটার পর্যন্ত ভিতরে ঢুকতে পেরেছে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। তবে টানেলের দেওয়াল ফেটে জল ঢুকে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। 

গত ৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকালে হিমবাহ ভেঙে তুষার ধস আর প্রবল জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলা। এনটিপিসি হাইড্রোল প্রজেক্ট প্রায় ভাসিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছিল জলের তোড়। সেই সময়ই সুড়ঙ্গতে আটকে পড়েছিলেন ২৫ জন শ্রমিক। বিপর্যের প্রথম দিনেই ৯ জনকে একসঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রকৃতিক এই বিপর্যয়ের কারণে চামোলিরা প্রায় ১২ জন গ্রামবাসীর কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি এখনও পর্যন্ত। রাজ্য পুলিশের আধিকারিক অশোর কুমার জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যে পর্যন্ত ৫৬টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। যারমধ্যে টানেল থেকে ৯টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকিগুলি পাওয়া গেছে অন্যান্য ধ্বংসস্তূপ থেকে। ২৯টি দেহ এখনও পর্যন্ত সনাক্ত করা হয়েছে। টানেলের ভিতর উদ্ধারকাজ এখনও চলছে বলেও জানিয়েছে উত্তরাখণ্ড পুলিশ। 


উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা রেনি গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। চামোলির এই গ্রামটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে প্রায় পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। রাস্তঘাট কোনও কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন মৃতদেহ ছাড়াই প্রায় ২২টি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ উদ্ধার হয়েছে। সেগুলির ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মৃতদেহগুলিরও ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃতদেহ ও অঙ্গপ্রত্য়ঙ্গগুলির গয়না, উলকি ও অন্যান্য সনাক্তকরণের চিহ্নগুলি বিস্তারিত বিবরণ নথিভুক্ত করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ সংক্রান্ত ৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভারত তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনী, জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে উত্তরাখণ্ড পুলিশ।