কৃষক আন্দোলনকে আঁকড়ে থকে কোনও রকমে স্রোতের বিরুদ্ধে ভেসে থাকতে চাইছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী থেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢ়রা সকলেই কৃষি আইন নিয়ে নিশানা করেছেন কেন্দ্রের মোদী সরকারকে। কংগ্রেসের প্রথম সারির সব নেতাই দিল্লির উপকণ্ঠে চলা কৃষক আন্দোলনকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। সূত্রের খবর দিল্লির কৃষক আন্দোলনের কংগ্রেসের প্রচ্ছন্ন মদতও রয়েছে। এই অবস্থাতেই সামনে এল কৃষক আন্দোলনে প্রাণের সঞ্চার করে রাখতে কতটা মরিয়া কংগ্রেস। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। যেখানে সেথানে তিনি তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে হরিয়ানার কংগ্রেস নেত্রী বিদ্যারানি রবিবার বক্তব্য রাখেছিলেন জিন্দের একটি দলীয় বৈঠকে। সেখানে তিনি কৃষক আন্দোলন আরও বাড়িয়ে তোলার ওপর জোর দেন। আর সেই জন্য দলীয় কর্মী সমর্থকদের কাছে অনুরোধ করেন, কৃষক বিক্ষোভ বাড়াতে অর্থ, শাকসবজি ঘি এমনকি মদও দান করা উচিৎ। যার যেমন সাধ্য সে তেমন দান করবেন আন্দোলন জিয়ে রাখতে। তেমনই আবেদন জানিয়েছিলেন নেত্রী। আর সভায় উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক সুভাষ গানগোলি সহ প্রবীণ নেতৃত্ব। নেত্রীর যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন তখন তার ভিডিও শ্যুট হচ্ছিল। সেখানে দেখা যাচ্ছে অনেকেই তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিদ্যারানি তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণ করেন। আর তাঁর বক্তব্যে তিনি দাবি করেন মদ দান করা সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত। 

বিদ্যারানি বলেছিলেন, বিক্ষোভ প্রতিটি ধরনের মানুষকে আকৃষ্ট করে। আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধে দিতে হয়। কোনও অসুস্থ মানুষকে মদ পান করানোর কথা বলা হচ্ছে না। কিন্তু আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার জন্য মদ দান করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে মিছিলেও তিনি বলেছেন কৃষক আন্দোলন এই তাঁর রাজ্যে কংগ্রেসকে একটি দিশা দেখাচ্ছে। নির্বাচনের পর কংগ্রেস যে অস্তিত্ত্ব হারিয়েফেলেছিল সেটি আবার ফিরে পাচ্ছে কৃষক আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। 


সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমত ভাইরাল হয় বিদ্যারানির ভাষণের কিছু অংশ। আর সেই অংশই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। তিনি প্রশ্ন করেন আর কতটা নিচে নামবে কংগ্রেস। মহাত্মা গান্ধীজির আদর্শের কংগ্রেসের জন্য এটি নৈতিক পতনের প্রায় শেষ ধাপ। কংগ্রেস কোথা থেকে অক্সিজেন পাচ্ছে তা আর এখন লুকিয়ে নেই। বিদ্যারানির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতা হরদীপ পুরী। যদিও কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।