রবিবার হিমবাহ ভেঙে গিয়ে তুষার ধস আর হড়পা বানে বিধ্বস্ত হয়ে যায় উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেল। সোমবারই প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা DRDO-র একটি বিশেষজ্ঞ দল পৌঁছে গেছে যোশীমঠে। সেখান থেকেই তাঁরা আকাশ পথে পরিদর্শন করেন প্রাকৃতিক তাণ্ডবে বিপর্যন্তে চামোলি জোলার বিস্তীর্ণ এলাকায় দুর্যোগের কারণ বুঝতেই এই সমীক্ষা চালান হয়েছে। তাঁরা বিপর্যস্ত এলাকা থেকে একাধিক তথ্য সংগ্রহ করেছেন। 

হিমালয়ের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলেই কি উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয়, কতটা গলেছে হিমবাহ ...

এবার আতস কাচের তলায় অক্ষয়-অজয়ের মত সেলিব্রিটিদের টুইট, 'চাপ' কিনা জানতে তদন্ত ...

ডিআরডিও-র পক্ষ থেকে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান হয়েছে, দলটি একটি বিমান থেকে হিমবাহের সমীক্ষা করেছিল। চামোলেতে যে জায়গায় মূল ঘটনাটি ঘটে সেই এলাকাও তারা পরিদর্শন করে। চামোলি সংলগ্ন অবস্থায় রয়েছে প্রাইমা ফেসি হিমবাহ। প্রাইমা হিমবাহকে বর্তমানে দেখে মনে হচ্ছে একটি ঝুলন্ত হিমবাহ। মূল হিমবাহটি ভেঙে সরু হয়ে উপত্যকায় নেমে এসেছিল। হিমবাহটি উপত্যকায় একটি হ্রদ তৈরি করেছিল। কিন্তু সেই হ্রদটিও পরে ফেটে যায়। তাতেই এই বিপর্যয় বলেও জানান হয়েছে। তবে এখনও গবেষক দলের তথ্য সংগ্রহ ও তা বিশ্লেষণ বাকি রয়েছে। পুরোপুরি খতিয়ে দেখেই রিপোর্ট দেওয়া হবে বলেও ডিআরডি-র পক্ষ থেকে জানান হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানান হয়েছে প্রয়োজনে গবেষদলটি আরও একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করতে পারে। 

রবিবার ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নন্দা দেবীর নিয়ে থাকা হিমবাহটি ফেটে যাওয়ায় ঋষিগঙ্গা হাইড্রোলিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি তছনচ করে দেয়। এনটিপিসি তত্ত্বাবধানে তৈরি হওয়া ধৌলিগঙ্গার ওপর একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেরও যেথেষ্ট ক্ষতি করে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। উদ্ধারকাজে নেমেছে ভারত তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনী। উদ্ধারকারী দলের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে। বিপর্যয়ের কারণে ছোটবড় সবমিলিয়ে প্রায় ১৩টি গ্রাম বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। রেনি গ্রামের ব্রিজ ভেঙে যায় সেই গ্রামগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত ২০৩ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী জানিয়েছে ৪৮ ঘণ্টা পরেও তারা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাবে।